
শেষ আপডেট: 9 October 2020 18:30
শ্রীনগরের চিনার কোরের লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিএস রাজু বলেছেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ভারতে অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। তাদের মদত দিচ্ছে পাক সেনারা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল বলেছেন, পাকিস্তানকে শত হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেও তাদের টনক নড়েনি। সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে পাকিস্তানকে। এরপরেও একই কাজ করে যাচ্ছে তারা। এখন তাদের লক্ষ্য জম্মু সেক্টরের কেরন তাংধর এবং পঞ্জাবে অস্ত্র পাচার করা। উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সেনা সূত্র জানাচ্ছে, রাজৌরি-পুঞ্চ এবং কুপওয়ার-কেরান সেক্টরে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকানোর ছক কষছে লস্কর এবং জইশের মাথার। তবে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর নিরাপত্তাবাহিনী। সীমান্তে রয়েছে কড়া সতর্কতা। তীক্ষ্ণ নজরদারিতে চলছে টহলদারি। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, চিনের সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের। ভারতকে দু’দিক থেকে চাপে রাখতে নয়া ছক কষছে চিন। জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা বাড়ানোর জন্য পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে বলে খবর। কাশ্মীরে অশান্তি জিইয়ে রাখার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল বদরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে ব্যাট অপারেশন চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে চিন ও পাকিস্তানের।
গোয়েন্দারা বলছেন, শীতের আগেই উপত্যকায় জঙ্গি সমেত অস্ত্রশস্ত্র চালান করে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে পাকিস্তান। চিনের মদতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ড্রোনে চাপিয়ে উপত্যকায় পাঠানোর চেষ্টা চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের কাছে ওই অস্ত্রশস্ত্র ফেলা হচ্ছে। গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর, মহেন্দ্র বোলেরো গাড়িতে দু’জনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সমেত পাকড়াও করেছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চিনের তৈরি ইএমইআই টাইপ ৯৭ এনএসআর রাইফেল, একে৪৭ রাইফেল, ২১৮ রাউন্ড কার্তুজ ও গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছিল। ২৩ তারিখেই ফিরোজপুর থেকে পাঁচটি একে৪৭ ও দুটি পিস্তল উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আখনুর গ্রাম, যেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। কাশ্মীর উপত্যকায় যে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়ে লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্যই পাকিস্তান থেকে এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।