
শেষ আপডেট: 6 March 2023 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের (Kashmir) একটি সামরিক আদালত এক সেনা অফিসারকে (Army officer) সোমবার যাবজ্জীবন কারাবাসের (imprisoned for life) সাজা দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি নিধন অভিযানে সংঘর্ষে আত্মরক্ষার অজুহাতে ঠাণ্ডা মাথায় তিন ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ ছিল। সামরিক আদালতের বিচারে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল আগেই। সোমবার আদালত তাঁকে কঠোর সাজা দিয়েছে। সাম্প্রতিককালে দেশে সেনা আদালতে এত কঠোর সাজা দেওয়ার নজির নেই। তবে এই সাজা বহাল থাকবে কিনা তা চূড়ান্ত করবে উচ্চতর সামরিক কর্তৃপক্ষ।
সামরিক আদালতের রায়ে খুশি জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, বাকি অভিযোগগুলিরও দ্রুত বিচার হোক। প্রসঙ্গত, সেনার বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগে একাধিকবার সরব হয়েছেন এই নেতা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০১৭ থেকে গত বছরের জুলাই পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরে সেনার বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরমধ্য ১০৮’টিই হল সেনার বিরুদ্ধে। বাকি আটটি অভিযোগ রয়েছে বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে।

সাজাপ্রাপ্ত সেনা অফিসারের নাম ক্যাপ্টেন ভূপেন্দ্র সিং। তাঁর সাজা নিয়ে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী নৈতিক অপারেশন পরিচালনার নীতিতে দৃঢ় অবস্থানে অবিচল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অপকর্মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখে।
ক্যাপ্টেন ভূপেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর অধীনস্ত বাহিনী অধিকার লঙ্ঘন করলেও তিনি বাধা দেননি। ঘটনাটি কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার। গোটা কাশ্মীর জুড়েই বিশেষ সামরিক আইন বা আর্ম ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার অ্যাক্ট চালু আছে। ওই আইন বলে সেনারা পুলিশের অধিকারগুলিও কাজে লাগাতে পারে। তবে ক্ষমতা বা অধিকার প্রয়োগ যুক্তি সঙ্গত হতে হবে।
২০২০-র ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাটির ক্ষেত্রে সেনার অধিকার প্রয়োগ নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তিন ব্যক্তিকে সেনা হত্যা করার পর শোপিয়ান জেলায় ওই অফিসারের নেতৃত্বে হওয়া অভিযান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইমতিয়াজ আহমেদ, আবরার আহমেদ এবং মোহাম্মদ ইবরারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যা স্থানীয়দের অনেকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা বলে অভিহিত করে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে সেনাকে রিপোর্ট দেয়। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে ওই তিনজনকে।