দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপত্যকায় সন্ত্রাস দমনে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। পাক মদতদপুষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিগুলোকে উপড়ে ফেলতে আধাসেনার সঙ্গে যোগ দেবে ভারতের মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স (মার্কোস) এবং বায়ুসেনার নিজস্ব এলিট ফোর্স গরুড়। জঙ্গিদের আস্ফালনে প্রতিদিনই উত্তপ্ত হচ্ছে উপত্যকা। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার অন্তত ৫০০ জঙ্গি। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর থেকে উপত্যাকার জইশ ঘাঁটিগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর। নাশকতা রুখতে তাই একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের এলিট ফোর্সগুলোর।
প্রতিরক্ষার তিনটি বাহিনীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল অপারেশন ডিভিশন।’ মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স বা মার্কোস-কে নিয়োগ করা হয়েছে উলার লেকের সংলগ্ন এলাকায়। বায়ুসেনার গরুড় সক্রিয় রয়েছে লোলাব ও হাজিন এলাকায়।
পাকিস্তানে ঢুকে লাদেনকে নিকেশ করেছিল মার্কিন নৌসেনার যে সিল-টিম-৬, ভারতীয় বায়ুসেনার গরুড় কম্যান্ডোরা দক্ষতায়, আধুনিকতায় এবং ক্ষিপ্রতায় তাদের সঙ্গেই তুলনীয় বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। গরুড় কম্যান্ডোদের অবিশ্বাস্য প্রতি আক্রমণের জেরেই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ঢুকেও ফাইটার জেট বা অ্যাটাক হেলিকপ্টারের কোনও কখনও ক্ষতি করতে পারেনি জঙ্গিরা। বায়ুসেনার বিভিন্ন ঘাঁটি রক্ষা করার মূল দায়িত্ব গরুড় কম্যান্ডোদের। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গরুড় বাহিনীকে। আচমকা কোনও পরিস্থিতি সামনে এলে দ্রুত তার মোকাবিলা করতে দক্ষ গরুড়। এ ছাড়া যুদ্ধের সময় শত্রুর এলাকায় আকাশপথে রেকি চালিয়ে আসা, প্রতিপক্ষের রেডার অকেজো করে দেওয়া, যে কোনও ধরনের বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজ চালানো— এমন নানা প্রশিক্ষণ রয়েছে গরুড় বাহিনীর।
ভারতের মেরিন কম্যান্ডো ফোর্স ১৯৮৭ সাল থেকে সক্রিয়। জল এবং স্থলে যে কোনও অবস্থায় মার্কোস অপারেশন চালাতে সক্ষম। মার্কোস বাহিনীর ব্যবহার করে পিস্তল অটো ৯ এমএম এবং সেমি অটোমেটিক পিস্তল, বেরেট্টা ৯২ এফসি পিস্তল, এসএএফ কার্বাইন ২ এ-ওয়ান বন্দুক, একে ১০৩ অ্যাসল্ট রাইফেল-এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র। কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমনে তাই এই দুই বাহিনীকে একজোট করারই সিন্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।