দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ টি সংসদীয় আসনে ভোট হবে বাংলাদেশে। তার ঠিক ছ’দিন আগে, সোমবার বাংলাদেশে নামল সেনাবাহিনী। ভোটের পরেও দু’দিন দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। এদিন ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ায় ভোটারদের আস্থা বাড়বে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানান, কেউ যেন হিংসার আশ্রয় না নেয়। তাঁর কথায়, আমি সব রাজনৈতিক দলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যাতে নির্বাচন হয় নির্বাচনেরই মতো। সকলে ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক-বিতর্ক এবং হাঙ্গামা পরিহার করুন। কেবল রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ভোটে বিজিবি, আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী নির্বাচন কমিশন ও অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করবে। তারা প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে টহল দেবে। বিমান বাহিনীও প্রয়োজনে হেলিকপ্টার দিয়ে ভোটে সাহায্য করবে।
নিরাপত্তার জন্য এখনও পর্যন্ত ২৭২ কোটি টাকা আগাম বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে খরচ হবে ৭০০ কোটি টাকা। তার দুই তৃতীয়াংশ ব্যয় হবে নিরাপত্তার জন্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন ১৪ থেকে ১৬ জন। নির্বাচন কমিশন পুলিশকে দেবে ৬৩ কোটি ২২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, র্যাবকে দেবে ১০ কোটি ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৫০ টাকা, কোস্ট গার্ডকে দেবে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা, বিজিবিকে দেবে ৩৩ কোটি ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৮৪ টাকা, আনসার ও ভিডিপিকে দেবে ১৬৩ কোটি ৮১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬০০ টাকা।
৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটার। এই প্রথমবার ভোটে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্রাম পুলিশ। গ্রাম পুলিশের দু’টি ভাগ। দফাদার ও মহলাদার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ৪৬ হাজার গ্রাম পুলিশ আছেন।
বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান মহম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি দাবি করেছেন, আগের যে কোনও ভোটের চেয়ে এবারের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মনে হচ্ছে আওয়ামি লিগ নয়, পুলিশই আমাদের প্রতিপক্ষ।