
অরিন্দম শীল।
শেষ আপডেট: 8 September 2024 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা ও খুনের ঘটনা নিয়ে আন্দোলিত গোটা রাজ্য। এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীলকে নিয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলা ছবির এক অভিনেত্রী যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছিলেন। শনিবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অরিন্দম ও অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। অরিন্দম চিঠি লিখে ক্ষমাও চান। কিন্তু তার পরই অরিন্দমকে সাসপেন্ড করে টলিউডের পরিচালকদের গিল্ড।
এ ঘটনার পর থেকেই টালিগঞ্জের বেশ কিছু শিল্পী ও অভিনেত্রী অরিন্দমের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন। কারও সোশাল পোস্টে পরম পরিতৃপ্তি প্রকাশ পেয়েছে গিল্ডের এই পদক্ষেপের কারণে। কৌতূহলের বিষয় হল, অরিন্দম কী বলছেন?
একটি সংবাদমাধ্যমে অরিন্দম জানিয়েছেন, গত মে মাসে তাঁর পরের ছবির শুটিং হচ্ছিল। দৃশ্যটি ছিল— নায়িকাকে তাঁর কোলে বসিয়ে কাছে টেনে চুমু খাবেন অভিনেতা। চিত্রনাট্যে লিপলকের কথা লেখা ছিল। তাতে অভিনেতা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। অরিন্দমের দাবি, অভিনেতা নিমরাজি থাকায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, লিপলকের দরকার নেই।
অরিন্দম জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ছবির দুই শিল্পীকে শট বোঝাচ্ছিলেন। তিনি ফ্লোরে এমনটা করেই থাকেন। শিল্পীদের শট ও কম্পোজিশন অভিনয় করে দেখিয়ে দেন। সেভাবেই ওই অভিনেত্রীকে বলেছিলেন তাঁর কোলে বসার জন্য। অরিন্দমের দাবি, তিনি এও বলেছিলেন যে, ভিতর দিকে বসতে হবে না, হাঁটুর উপর বসুক। তার অভিনেত্রী মুখটা ভিতরে ঢুকিয়ে রাখবেন, যেন অভিনেতার ক্লোজ হচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখাতে গিয়ে তাঁর মুখটা অভিনেত্রীর গালে ছুঁয়ে যায় বলে দাবি অরিন্দমের।
অরিন্দম শীল দ্য ওয়ালকে বলেন,“ওই অভিনেত্রী এবং আমাকে মহিলা কমিশনে ডাকা হলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে যা হয়েছে তা একেবারেই অনিচ্ছাকৃত। অভিনেত্রীর খারাপ লাগলে ক্ষমা চাইছি। কোনও মহিলাকে অপমান করার উদ্দেশ্য ছিল না”। অরিন্দম জানিয়েছেন, তাঁকে কমিশনের তরফে লিখিত দিতে বলা হয়েছিল। তিনি রাজি হয়ে যান। কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, অনিচ্ছাকৃত শব্দটি লেখা যাবে না। তাতেও রাজি হয়ে যান তিনি।
অরিন্দম আরও বলেন, ডিওপি থেকে ফ্লোরে সবাই ছিলেন। সবাই দেখেন। সাহেব চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য অসৎ ছিল না।
তবে অরিন্দম এমনটা দাবি করলেও, টলিপাড়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একাংশ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তা ছাড়া আরজি কর কাণ্ডের পর এই অরিন্দমকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যাওয়ায় তা নিয়েও তীর্যক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন অনেকেই।