
শেষ আপডেট: 2 July 2024 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: আড়িয়াদহে মা-ছেলেকে রাস্তা ফেলে মারধরের ঘটনায় জড়িত ৬জনকে গ্রেফতার করল বেলঘরিয়া থানার পুলিশ। সিসিটিভি খতিয়ে দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। যদিও স্থানীয়দের দাবি, যাকে নিয়ে গন্ডগোলের সূত্রপাত, সেই যুবক আগেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত জয়ন্ত সিং এখনও অধরা।
এদিকে অভিযুক্ত জয়ন্ত সিংয়ের সঙ্গে মদন মিত্রের ছবি প্রকাশ্য আসায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। মদন বলেন, 'আমার সঙ্গে কারও ছবি থাকতেই পারে, আমার কোনও দায় নেই। আমার সঙ্গে সবাই মেলামেশা করে, আমি কী করব? ক্রাইমের দায় আমার নয়। অন্যায় করলে পুলিশ পদক্ষেপ করবে।' অভিযুক্ত জয়ন্ত সিংহের সঙ্গে মদন মিত্রের বৌমা মেঘনা মিত্রর ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি কামারহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরও।
আত্মীয়রা জানিয়েছেন, আক্রান্ত যুবক সায়নদীপ পাঁজা বেলঘরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা সংকটজনক। তাঁর মা বুলবুল পাঁজারও অবস্থা গুরুতর। মঙ্গলবার তাঁর অপারেশন হয়েছে। অভিযোগ, দুজনকে এতো মারধর করা হয়েছে, যে সায়নদীপের মায়ের দুটি দাঁত ভেঙে রাস্তায় পড়ে যায়। আরও দুটি দাঁত মারির মধ্যে ঢুকে গেছে। ফলে ওই মহিলা কথা বলতে পারছেন না। এছাড়া আক্রান্ত ওই যুবকের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সায়নদীপের বন্ধুর অভিযোগ, রবিবার রাত ১০টা নাগাদ তাঁরা দুজনে বাড়ির সামনে বসে গল্প করছিলেন। প্রীতম কাহার নামে এক যুবক তখন সেখানে থেকে যাচ্ছিল। প্রীতমের মনে হয়, তাকে উদ্দেশ করে সায়নদীপ ও তার বন্ধু কিছু কথা বলছে। এই নিয়ে দুপক্ষের বচসা শুরু হয়। সেই সময়ে এলাকার গুন্ডা জয়ন্ত সিংকে খবর দেয় প্রতীম। দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় জয়ন্ত। সায়নদীপ ও তাঁর বন্ধুকে মারধর করে। বাড়ির নীচে চেঁচামেচি হচ্ছে শুনে সায়নদীপের মা ছুটে যান রাস্তায়। ছেলেকে গুণ্ডাদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও আক্রান্ত হন। সায়নদীপের বন্ধু ওই যুবকও আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাঁর চোট ততটা গুরুতর নয়। এই ঘটনার পরে সায়নদীপের আত্মীয়রা থানায় জয়ন্ত সিং তার দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।