
শেষ আপডেট: 5 January 2020 02:30
হামিংবার্ড: বিশাল চঞ্চু এরও[/caption]
নাজকা লাইন নিয়ে আশ্চর্য কয়েকটি ব্যাপার রয়েছে। প্রথমত প্রাকৃতির দুর্যোগ ও আধুনিকতার গ্রাস থেকে কী ভাবে রক্ষা পেয়ে গেল, দ্বিতীয়ত কী ভাবে এই কাজ সম্ভব হয়েছিল এবং তৃতীয়ত কেন এগুলি করা হয়েছিল।
পেরুর যে তটে এগুলি রয়েছে সেই তট খুবই ঊষর। সম্ভবত সেই কারণে শতাব্দীর পর শতাব্দী পার করেও মানুষের তৈরি এই কাজ টিকে গেছে।
অনেক গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বার করেছেন, লাঠি ও দড়ির সাহায্যে প্রথমে ছবিগুলি তৈরি করা হয়েছিল। তারপরে মাটির উপরিভাগ থেকে রঙিন পাথরগুলো সরিয়ে ওই দড়ি বরাবর রাখা শুরু হয়। তার ফলেই তৈরি হয়ে যায় দুই রঙা কার্যত ত্রিমাত্রিক নকশা। যেখানে পাথর শক্ত সেখানেও তারা থেমে থাকেনি। পৃথিবীর বুকে খোদাই করেছে সভ্যতার চিহ্ন যা টিকে রয়েছে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে। এই লাইন দেখিয়ে পেরু প্রতি বছর বিপুল টাকা রোজগার করে পর্যটনের মাধ্যমে।
[caption id="attachment_174143" align="aligncenter" width="600"]
নাজকা লাইনে মাকড়সা, আকাশ থেকে দেখা[/caption]
দক্ষিণ-পশ্চিম পেরুতে নাজকারা কৃষিনির্ভর সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছিল। পূর্বসূরী পারাকাদের প্রভাব তাদের মধ্যে পুরোমাত্রায় ছিল। তাদের মৃৎপাত্র ও পোশাক বিখ্যাত, তবে সবচেয়ে বিখ্যাত হল পৃথিবীর বুকে আঁকা নকশা। কেন তারা এগুলি এঁকেছিল তা আজও রহস্য। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন, এই জায়গায় আসার আগে নাজকারা যেসব প্রাণী দেখেছিল সেগুলিকেই তারা এঁকেছে এই ভাবে। তাহলেও রহস্য উদ্ঘাটন হচ্ছে না কারণ এমন কিছু নকশা রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত কাল্পনিক বলেই মনে করা হয়।
নকশা করার পদ্ধতি নিয়ে যুক্তিগ্রাহ্য কিছু বলা গেলেও কারণ নিয়ে কোনও সূত্র খুঁজে পাননি তাঁরা। এখন গবেষকরা ভাবছেন এব্যাপারে তাঁরা পক্ষিবিশারদদের সহায়তা নেবেন। নকশাগুলির মধ্যে অনেকগুলির পাখির মতো দেখতে।
[caption id="attachment_174144" align="alignnone" width="600"]
শরীরের তুলনায় পাখির লেজ, ডানা ও চঞ্চু বিশাল[/caption]
নাজকা লাইনে যেসব পাখির নকশা করা হয়েছে এখন সেই সব পাখি কোথায় পাওয়া যায়, আগে কোথায় পাওয়া যেত এসব জানতে চান গবেষকরা। এই পাখির মধ্য দিয়ে নাজকারা কোনও বার্তা দিতে চেয়েছেন কিনা তাও তাঁরা বোঝার চেষ্টা করবেন।
এখানে ১৬টি বিশাল বিশাল পাখির নকশা রয়েছে যে পাখিগুলির চঞ্চু, ডানা ও লেজ আঁকা হয়েছে শরীরের তুলনায় অনেক বড় করে। এই পাখির তালিকায় রয়েছে পেলিক্যান, গুয়ানো ও হার্মিট। এখানে আঁকা পাখিগুলি কোনওটিই স্থানীয় নয়। হার্মিট ও গুয়ানো দেখতে পাওয়া যায় বিষুবীয় বৃষ্টি অরণ্যে। হার্মিটকে হামিংবার্ডও বলা হয়। পেরুতে এই পাখির দু’টি প্রজাতি পাওয়া যায় – কোয়েপেকেজ হার্মিট ও রেডিশ হার্মিট। পেলিক্যান পাওয়া যায় একেবারে উপকূল অঞ্চলে।
পক্ষিবিশারদদের দিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে আঁকা পেরুর বিভিন্ন প্রজাতির দু’হাজারের উপর পাখির ছবির সঙ্গে এগুলিকে মিলিয়ে দেখা হবে।
জীবজন্তু ছাড়া বহু জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন এগুলির সঙ্গে সেই সময়ের মানুষের জ্যোর্তিবিজ্ঞান সংক্রান্ত কোনও রীতির যোগসূত্র থাকতে পারে। এমনও হতে পারে যে কোথায় খাবার ও জল রয়েছে এই ধরনের তথ্য পাকাপাকি ভাবে স্মরণে রাখতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল নাজকারা।