দ্য ওয়াল ব্যুরো : মুনাফা কমছে বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপেলের। সেকথা জানাজানি হতেই ঝপ করে অনেকখানি পড়ে গিয়েছে তার শেয়ারের দাম। অ্যাপেলের কর্তারা বিনিয়োগকারীদের বোঝাচ্ছেন, চিন্তার কিছু নেই। সাময়িক ধাক্কা সামলে ফের ঘুরে দাঁড়াবে এই দৈত্যাকার সংস্থা। তার পরেও শেয়ারের দাম বিশেষ বাড়েনি।
বৃহস্পতিবার আমেরিকায় ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বাজার খোলার পরেই অ্যাপেলের শেয়ারের দর পড়ে যায় ৯.০৭ শতাংশ। শেয়ারের মূল্য হয় ১৪৩.৬০ ডলার। দিনের শেষে দাম সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৫.০৫ ডলার। এর ফলে কোম্পানির মূল্য কমে যায় ৭৫০০ কোটি ডলার। ইউরোপের বাজারেও অ্যাপেলের শেয়ারের দাম পড়ে যায়। আগামী দিনে দামের পতন অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কিছুদিনের মধ্যে চিনের অর্থনীতিতে মন্দা চলবে। তখন চিন ও আশপাশের দেশগুলিতে কমবে স্মার্টফোনের বিক্রি। তাতে মুনাফা আরও কমবে অ্যাপেলের।
গত বুধবার অ্যাপেলের চিফ এক্সিকিউটিভ টিম কুক ঘোষণা করেন, কোম্পানির লাভ কমছে। আগে মনে হয়েছিল ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে মুনাফা হবে ৮৯০০ থেকে ৯৩০০ কোটি ডলার। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই মুনাফা কমই। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, অত লাভও হয়নি। আশা করা হচ্ছে ৮৪০০ কোটি ডলার মুনাফা হবে।
কেন লাভ কমছে? টিম কুক বলেছেন, চিন, তাইওয়ান ও হংকং-এ কমেছে স্মার্টফোনের বিক্রি। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, নতুন যে সব বাজারে ঢুকেছি, সেখানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কিন্তু চিন ও আশপাশের দেশগুলিতে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হবে বুঝতে পারিনি। তার ফলেই আমাদের স্মার্টফোনের বিক্রি কমেছে।
চিনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে টিম কুক বলেছেন, ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চিনে মন্দা শুরু হয়। সেদেশের সরকার বলছে, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে জিডিপি-র হার যেভাবে কমেছে, গত ২৫ বছরে তেমন কমেছিল মাত্র আর একবার। আমাদের মনে হয়, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলে চিনের অর্থনীতি আরও দুর্বল হবে। তার প্রভাব পড়বে আমাদের কোম্পানির ওপরে।
লাভ কমার জন্য টিম শুধু বাজারকেই দায়ী করেননি। নিজেদের অক্ষমতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ফোনের আপগ্রেড করেছি ঠিকই কিন্তু তা ক্রেতাদের পছন্দ হয়নি। সম্ভবত আমরা তাঁদের প্রত্যাশামতো স্মার্টফোনের উন্নতি করতে পারিনি। তাছাড়া এখন সস্তায় ফোনের ব্যাটারি বদলানো যায়। ফলে আগের মতো লোকে ঘন ঘন আইফোন কেনে না।