দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীকে খুন করার অভিযোগে এখন তিনি জেলবন্দি। টানা চার দিন ধরে পুলিশি জেরাতে সামান্যতম ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি অপূর্বা শুক্ল তিওয়ারিকে। বরং তাঁর কঠোর, ভাবলেশহীন মুখই তাজ্জব করেছিল দুঁদে পুলিশ অফিসারদের। তবে দিন যত এগোচ্ছে অপূর্বার হাবভাবে অদ্ভুত পরিবর্তন আসছে। তদন্তকারীদের কথায়, জেরার মুখে কখনও তিনি অকপটে খুনের কথা স্বীকার করেছেন, আবার কখনও একরাশ বিভ্রান্তি নিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন।
গ্রেফতার তিন দিন আগে থেকেই অপূর্বাকে জেরা করা শুরু করেছিল পুলিশ। পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অপূর্বা জানিয়েছিল, স্বামী রোহিতকে তিনিই বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছেন। কারণ রোহিতের অতিরিক্ত মদ্যপান, বেপরোয়া হাবভাব তাঁর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। এমনকি তিনি এও জানিয়েছিলেন, খুনের ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সুকৌশলে লোপাট করে দিয়েছিলেন তিনি।
তদন্তকারীদের কথায়, প্রতিদিনই একটু একটু করে রোহিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরছেন অপূর্বা। জানিয়েছেন, নিজের বোনের সঙ্গে একসঙ্গে বসে মদ্যপান করতেন রোহিত, যেটা তাঁর একেবারেই পছন্দ ছিল না। এমনকি এক গ্লাস থেকে মদে চুমুক দিতেন তাঁরা। অনেকবার বারণ করা সত্ত্বেও রোহিত বিশেষ পাত্তা দিতে চাননি। ফি দিন রাতে এই নিয়ে তাঁদের অশান্তি চলত।
বছর চল্লিশের রোহিত গত ১২ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডে ভোট দিতে যান। দিল্লিতে ফেরেন ১৫ এপ্রিল রাতে। দক্ষিণ দিল্লির ডিফেন্স কলোনির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ধরা পড়েছে, মদ খেয়ে টলতে টলতে বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন রোহিত। পরের দিন রোহিতের মা উজ্জ্বলা তিওয়ারি গিয়েছিলেন দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে নিজের চিকিৎসার জন্য। সেই সময় ফোনে তিনি খবর পান রোহিত অসুস্থ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পরিবার সূত্রে প্রথমে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে রোহিতকে খুন করা হয়েছিল।
অভিযোগের আঙুল অপূর্বার দিকে উঠতেই পারিবারিক কেচ্ছা একে একে সামনে চলে আসতে শুরু করে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ঘিরে নতুন মোড় নেয় তদন্ত। অপূর্বার দাবি ছিল রোহিত মদ্যপ, তাঁর থেকে নিষ্কৃতী লাভের জন্যই এই খুন। অ্যদিকে, রোহিতের মা উজ্জ্বলা দাবি করেন, রোহিতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনওদিনই ভালো ছিল না অপূর্বার। বিয়ের আগেও তাঁর নাকি এক প্রেমিক ছিল। রোহিতের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ার একমাত্র কারণ ছিল তাঁদের বিপুল সম্পত্তি হস্তগত করা। উজ্জ্বলার দাবি, দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনির তিন তলা বাংলো হাতানোর অভিপ্রায়ও নাকি ছিল অপূর্বার। পাশাপাশি ছিল অপূর্বার মাত্রাতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা। রোহিতের ভাই সিদ্ধার্থের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, এমন অভিযোগও উঠেছিল।
রোহিতের পরিবার জানিয়েছে, অপূর্বা জানতে পেরেছিল তাঁকে সম্পত্তি থেকে কানাকড়িও দেওয়া হবে না। তাঁর বাবা ইনদওরের নামী আইনজীবী, অপূর্বা নিজেও সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। এটাও তাঁর রাগের আরও একটা কারণ ছিল। রোহিতকে খুন করতে পারলেই সম্পত্তিতে রোহিতের একটা বড় অংশ তাঁর নামে চলে আসত।
পুলিশ জানিয়েছে, অপূর্বার নখের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে রোহিতের ত্বকের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষাতেও প্রমাণিত হয়েছে খুনটা অপূর্বাই করেছেন। রোহিতের পোশাক, বেডশিট, বালিশ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের কথায়, অপূর্বার মানসিক স্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে, তাই তাঁর কাউন্সেলিং করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।