
শেষ আপডেট: 23 January 2023 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhash Chandra Bose) জন্ম জয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক তরজায় (political turmoil) মাতল রাজ্যের সব দল। সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান জ্ঞাপনের (paying homage) কৃতিত্ব দাবি করে প্রতিপক্ষকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট এবং আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দলগুলি নেতাজিকে নিয়ে মুখর।
ময়দানে সুভাষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির আদর্শ ও অবদানের কথা বলতে গিয়ে নাম না করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন গঠন করেছিলেন। সেই কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কেন এমন সিদ্ধান্ত, আজও তা আমার বোধগম্য হয়নি। নেতাজি স্বাবলম্বনের কথা বলতেন। তাঁর কথাকে স্মরণে রেখে মুখ্যমন্ত্রী আজ সুফল বাংলার ৫০টি চলমান বিপণীর উদ্বোধন করেন।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ শহিদ মিনার ময়দানে আরএসএসের নেতাজি বন্দনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বলেন, বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীর সরকার নেতাজিকে প্রাপ্য সম্মান দিয়েছে। অতীতে কোনও সরকার এই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীকে সম্মান জানায়নি।
সেখানেই সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, নেতাজি ও সঙ্ঘ পরিবারের লক্ষ্য অভিন্ন, মহান ভারত গড়ে তোলা। আরএসএস ভারত মাতার এই বীর সন্তানের আদর্শকে পাথেয় করে তাঁর স্বপ্ন সফল করে তুলতে চাইছে, বলেন ভাগবত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ পোর্ট ব্লেয়ারে ছিলেন। আন্দামান ও নিকোবরে নেতাজির জীবনভিত্তিক একটি মিউজিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মিউজিয়ামের মডেলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারের তরফে আন্দামানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ।
নেতাজিকে নিয়ে বিরোধীদের বিঁধেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার প্রথম সরকারিভাবে দিল্লিতে সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। নেতাজিকে সম্মান যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে থাকেন তো তিনি নরেন্দ্র মোদী। দিলীপ কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, নেতাজি এই দলেই থাকতে পারেননি। বাধ্য হয়েছিলেন নিজের দল গড়তে।
শুভেন্দুর নেতাজিকে সম্মান জ্ঞাপন সংক্রান্ত বক্তব্য খণ্ডন করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, আরএসএস, বিজেপির কোনও আদর্শস্থানীয় মানুষ নেই। তাই সুভাষচন্দ্র বসুর কৃতিত্বকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে তারা।
মুখ খুলেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ও আরএসএস তাদের ধ্বংসাত্মক নীতি, আদর্শকে আড়াল করতে নেতাজির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এটা ভোটের রাজনীতি, বলেছেন তিনি।
যদিও বামেদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি ও তৃণমূল। বামেরা সুভাষ বসুকে ফ্যাসিবাদী শক্তির ধারক বলে গালমন্দ করত। নেতাজির দল বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের চাপে বামফ্রন্ট সরকার দীর্ঘদিন বাদে সরকারিভাবে নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালন শুরু করে।
নেতাজি ও আরএসএসের লক্ষ্য অভিন্ন, বললেন সঙ্ঘ প্রধান ভাগবত, মানেন না সুভাষ অনুগামীরা