দ্য ওয়াল ব্যুরো: জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন, তাঁদের উপরে পুলিশি হামলা, হামলার প্রতিবাদে দেশের নানা প্রান্তের যুবসমাজের প্রতিক্রিয়া, জামিয়ার পড়ুয়াদের সমর্থনে মিছিল-- এসব কিছুকেই সরাসরি সমর্থন করলেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। পুলিশি হামলার নিন্দা করে লিখলেন, "দেশের যুবসমাজ জেগে উঠেছে।"
শাসকের সমালোচনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই সরব অপর্ণা সেন। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার পরেই প্রতিবাদী টুইট দেখা যায় তাঁর। দিন কয়েক আগেই যখন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সারা দেশের নানা প্রান্তে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, তখন তিনি লিখেছিলেন “নোটবন্দি। অর্থনীতির বেহাল দশা। বেকারত্বের হার শীর্ষে। কাশ্মীর। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। অসমে জরুরি অবস্থা। এনআরসি-কে কেন্দ্র করে সারা দেশে দাঙ্গা পরিস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আক্রান্ত… ভারত একেবারে ছিন্নবিচ্ছিন্ন, এবং রক্তাক্ত।”
এর পরে সেই আক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিলিয়ার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী। অপর্ণা একা নন। জামিয়া ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশ যেভাবে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে, তার তীব্র নিন্দায় সরব রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের একটা বড় অংশ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ইতিমধ্যে। পাল্টা দিল্লি পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
টুইটারে অপর্ণা লিখেছেন, "এই দেশ ‘সাভারকরের ভারত’ চায় না। দেশের যুবশক্তি প্রতিবাদে জেগে উঠেছে। সাতটি রাজ্য নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধিতা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পুলিশ যেভাবে আক্রমণ করেছে, তা লজ্জাজনক। আমি সারা দেশের ছাত্রছাত্রীসমাজের পাশে আছি।"
দেখুন সেই টুইট।
https://twitter.com/senaparna/status/1206475297685553153
তবে এই টুইটের পরেই আরও একটি টুইট করেন তিনি। সেখানে লেখেন, "আন্দোলনের পদ্ধতি দয়া করে অহিংস রাখুন, প্রিয় প্রতিবাদীরা। অহিংস প্রতিরোধের গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক বেশি। এখন আমাদের গান্ধীকে মনে রাখতে হবে।"
https://twitter.com/senaparna/status/1206476405615124480
ইতিমধ্যেই অনুরাগ কাশ্যপ, তাপসী পান্নু, রিচা চাড্ডা, আয়ুষ্মান খুরানা-সহ অনেকেই জামিয়া মিলিয়া ও সারা দেশের পড়ুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে টুইট করেছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র শাহরুখ খান। এই নিয়ে নেট দুনিয়ায় সমালোচনারও শিকার হয়েছেন তিনি।
কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের উত্তাপ বাড়ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে শুরু হওয়া ক্যাব-বিরোধী আন্দোলনের আঁচে পুড়তে শুরু করেছে বাংলাও। দিল্লি জুড়ে জোট বেঁধেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। রবিবারই কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি চলেছে জামিয়া মিলিয়া এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের উপর। চলেছে জলকামান। পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।
গোটা দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের প্রশ্ন, যেখানে দেশের অর্থনীতি তলানিতে, এত মানুষের চাকরি নেই, অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান নেই, সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন ডেকে আনার অর্থ কী! সেই কারণেই এনআরসি অর্থাৎ নাগরিকপঞ্জি নিয়ে গোড়া থেকেই প্রতিবাদ ঘনিয়েছিল নানা স্তরে।
এর পরে এই নাগরিকপঞ্জিতে কাদের নথিভুক্ত করা হবে এবং কাদের হবে না, সে বিষয়টি ঠিক করার জন্য ক্যাব অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ হয় সংসদে। সে বিলে সই করে তার আইনি স্বীকৃতি দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই আইন পাশ হওয়া মানে, কার্যত স্বীকৃতি পেয়ে গেল এনআরসি-ও।
এই নাগরিকত্ব আইনকে জনবিরোধী বলে দাবি করে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজিত হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। অসমে ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন বেশ কিছু প্রতিবাদী। দিল্লিতেও ক্রমেই হিংসার পথে এগোচ্ছে এই আন্দোলন। এই অবস্থার প্রতিবাদেই টুইট করছেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন।
এর আগেও জেএনইউ-তে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন চলার সময়ে অপর্ণা টুইট করেছিলেন, “আমি কর দিই, তাই আমি চাই, আমার করের টাকায় জেএনইউ-এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তুকি দেওয়া হোক।” কেন্দ্র সরকার যখন আগ্রা শহরের নাম বদলে অগ্রবন করার প্রস্তাব রেখেছিল, তখনও তিনি লিখেছিলেন, “গুজব শুনছি আগ্রার নাম নাকি বদল করা হবে? আশা করি এটা গুজবই, সত্যি নয়। কে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? আমরা দেশের করদাতা নাগরিক, তাঁদের মত না নিয়ে এমনটা কী ভাবে করা যায়? আমরা মোটেও আগ্রার নাম বদলে অন্য কোনও কিছু করতে দেব না।”