দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, রক্ত পড়ছে গোটা দেশের শরীর থেকে।-- টুইট করে ক্ষোভ উগরে দিলেন অপর্ণা সেন। দেশের এই অবস্থা নিয়ে ফের মুখ খুললেন তিনি। এর আগেও একাধিক বার দেশের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। তোপ দেগেছেন অব্যবস্থা নিয়ে। তাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে গোটা দেশ যখন উত্তাল, ক্রমেই খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে দেশের প্রশাসনিক পরিস্থিতি, তখন প্রত্যাশিত ভাবেই ফের টুইঠ করলেন অপর্ণা।
টুইটে তিনি লেখেন, "নোটবন্দি। অর্থনীতির বেহাল দশা। বেকারত্বের হার শীর্ষে। কাশ্মীর। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। অসমে জরুরি অবস্থা। এনআরসি-কে কেন্দ্র করে সারা দেশে দাঙ্গা পরিস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আক্রান্ত... ভারত একেবারে ছিন্নবিচ্ছিন্ন, এবং রক্তাক্ত।"
কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের উত্তাপ বাড়ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে শুরু হওয়া ক্যাব-বিরোধী আন্দোলনের আঁচে পুড়তে শুরু করেছে বাংলাও। দিল্লি জুড়ে জোট বেঁধেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। রবিবারই কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি চলেছে জামিয়া মিলিয়া এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের উপর। চলেছে জলকামান। পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।
গোটা দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের প্রশ্ন, যেখানে দেশের অর্থনীতি তলানিতে, এত মানুষের চাকরি নেই, অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান নেই, সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন ডেকে আনার অর্থ কী! সেই কারণেই এনআরসি অর্থাৎ নাগরিক পঞ্জিকা নিয়ে গোড়া থেকেই প্রতিবাদ ঘনিয়েছিল নানা স্তরে।
এর পরে এই নাগরিক পঞ্জিকায় কাদের নথিভুক্ত করা হবে এবং কাদের হবে না, সে বিষয়টি ঠিক করার জন্য ক্যাব অর্থাণ নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ হয় সংসদে। সে বিলে সই করে তার আইনি স্বীকৃতি দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এই আইন পাশ হওয়া মানে, কার্যত স্বীকৃতি পেয়ে গেল এনআরসি-ও।
এই নাগরিকত্ব আইনকে জনবিরোধী বলে দাবি করে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজিত হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। অসমে ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন বেশ কিছু প্রতিবাদী। দিল্লিতেও ক্রমেই হিংসার পথে এগোচ্ছে এই আন্দোলন। এই অবস্থার প্রতিবাদেই টুইট করলেন অভিনেত্রী।
এর আগেও জেএনইউ-তে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন চলার সময়ে অপর্ণা টুইট করেছিলেন, “আমি কর দিই, তাই আমি চাই, আমার করের টাকায় জেএনইউ-এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তুকি দেওয়া হোক।” কেন্দ্র সরকার যখন আগ্রা শহরের নাম বদলে অগ্রবন করার প্রস্তাব রেখেছিল, তখনও তিনি লিখেছিলেন, “গুজব শুনছি আগ্রার নাম নাকি বদল করা হবে? আশা করি এটা গুজবই, সত্যি নয়। কে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? আমরা দেশের করদাতা নাগরিক, তাঁদের মত না নিয়ে এমনটা কী ভাবে করা যায়? আমরা মোটেও আগ্রার নাম বদলে অন্য কোনও কিছু করতে দেব না।”
এবার যখন এনআরসি ও ক্যাব নিয়ে গোটা দেশের নানা প্রান্তে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, তখনও ফের টুইট করলেন তিনি।