দ্য ওয়াল ব্যুরো : লখনউয়ে বিশেষ সিবিআই আদালতের রায়ে বুধবার বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় ৩২ জন অভিযুক্তকেই নির্দোষ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তার আগে মঙ্গলবারই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ভারতে অফিস বন্ধ করে দিচ্ছে তারা। এই দু'টি ঘটনায় এদিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী অপর্ণা সেন।
তিনি টুইট করে বলেছেন, বাবরি নিয়ে রায় শুনে গভীর উদ্বিগ্ন হয়েছি। বিবিসি থেকে শুনলাম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। তারা ভারত থেকে বিদায় নিচ্ছে। এই ঘটনাও উদ্বেগজনক।
https://twitter.com/senaparna/status/1311234243905814529
বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনয় কাটিহার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ। আদালত এদিন সকলকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে।
বিচারক তাঁর রায়ে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। প্রথমত, পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তৃতীয়ত সিবিআই যে ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পেশ করেছে, তা প্রামাণ্য কিনা জানা যাচ্ছে না। চতুর্থত, সমাজবিরোধীরা মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা তাঁদের থামাতে চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চমত, অডিও ক্যাসেটে কয়েকজনের ভাষণ শোনা যাচ্ছে বটে কিন্তু কী বলা হয়েছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার জানায়, মোদী সরকার তাদের বিরুদ্ধে 'উইচ হান্ট' চালাচ্ছে। অর্থাৎ মধ্যযুগে ইউরোপে যেভাবে ডাইনি খোঁজা হত, নিরীহ মহিলাদের ডাইনি সন্দেহে নিপীড়ন করা হত, ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বিরুদ্ধে সেইরকম আচরণ করছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট অ্যামনেস্টির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। এর ফলে ভারতে ওই সংগঠনের সব কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক এক মাস আগে অ্যামনেস্টি দু'টি রিপোর্ট পেশ করেছিল। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। অপর রিপোর্ট পেশ করা হয় দিল্লি দাঙ্গার ছ'মাস পূর্তি উপলক্ষে। দু'টি রিপোর্টেই কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিযোগ, বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করেছে অ্যামনেস্টি। তাই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে।