
শেষ আপডেট: 13 January 2024 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে আটদিন। এখনও অধরা তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ। তিনি বাংলায় আছেন নাকি বাংলাদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন, সেই জল্পনাও রয়েছে তুঙ্গে। এদিকে ইডির উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধীরা। আর এহেন পরিস্থিতিতে বাংলায় এসে তৃণমূলকে নিশানা করতে ছাড়লেন না কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। তাঁর মতে, 'বাংলায় আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ পরিস্থিতি। সারা দেশে যা হয় না, তা হয় বাংলায়।''
শনিবার কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। বিমানবন্দরে নেমেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ''বাংলায় তোষণের রাজনীতি চলছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের আশ্রয় দেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।''
রেশন দুর্নীতির তদন্তে সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। সেখানে স্থানীয়দের হাতে আক্রান্ত হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে দাবি করেছেন অনুরাগ।
রাজ্য সরকারকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলেই আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে ইডিকে। কেন রাজ্য সরকার দুর্নীতিগ্রস্তদের বাঁচাতে চাইছে?” এরপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “সাংসদ-বিধায়ক-কাউন্সিলরদের উপর থেকে কি রাশ আলগা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী? নাকি তাঁর নির্দেশেই গুন্ডারা তদন্তকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে?''
গত ৫ জানুয়ারি সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি অফিসাররা। গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন ইডি অফিসার। কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। বাদ যায়নি সংবাদমাধ্যমও। এই ঘটনায় রাজ্য তথা দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিচারপতি থেকে রাজ্যপাল, নিন্দায় সরব হয়েছেন সকলেই। ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের সরাসরি নাম উল্লেখ করে ন্যাশনল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তথা এনআইএ-র দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।