
শেষ আপডেট: 7 November 2023 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতীর ফলক বিতর্ককে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে বিজেপির অন্তর্কলহ। ‘উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী নিজেকে বিজেপি প্রমাণ করার জন্য বারবার রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেছেন’ বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অনুপম হাজরা। এমনকী উপাচার্য বিশ্বভারতী ছেড়ে যাওয়ার পর শান্তিনিকেতনকে গোবর জল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে পরিষ্কার করারও ডাক দিয়েছেন তিনি।
অনুপমের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাম না করে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “উপাচার্যকে অপমান করা বিজেপির সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। দলে থেকে এই সব করা যাবে না। কারও না পোষালে দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।”
শমীকের ওই মন্তব্যের পরই শান্তিনিকেতনের কবিগুরু মার্কেটে তৃণমূলের অবস্থান মঞ্চে পৌঁছন বিজেপি নেতা অনুপম। তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে রবীন্দ্রমূর্তিতে মাল্যদান করার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা, কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তারপরই বিশ্বভারতী জুড়ে জন্ম নিয়েছে নয়া গুঞ্জন, তৃণমূলে ফিরছেন অনুপম হাজরা?
সরাসরি এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি অনুপম। তবে এমন সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে ঘিরে যেভাবে অনুপম বনাম বিজেপির কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে তাতে বিজেপিতে অনুপমের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার অনুপমের নাম না করে দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য যেভাবে দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার কিছু পরেই তৃণমূলের শিবিরে অনুপমের উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরাল করেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মাসখানেক আগে ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় বিশ্বভারতী। এরপরই সেখানে বিশ্বভারতীর আচার্য অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম দিয়ে ফলক বসানো হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আশ্রমিকরা। এর পাশাপাশি দেখা যায়, সেই ফলকে নাম নেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের! যা তাঁদের ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ করে দেয়।
তৃণমূলের তরফেও শুরু হয় অবস্থান। উপাচার্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অনুপম হাজরাও। এমনকী ফলক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষও। বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, ৮ নভেম্বর বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তাঁর মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না।