বোলপুরের আইসিকে গালিগালাজ, তার আগে জেলযাত্রা— সব মিলিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) ঘিরে তৃণমূলের (TMC) অন্দরে বহুদিন ধরেই চাপা অস্বস্তি চলছিল।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 28 July 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুরের আইসিকে গালিগালাজ, তার আগে জেলযাত্রা— সব মিলিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) ঘিরে তৃণমূলের (TMC) অন্দরে বহুদিন ধরেই চাপা অস্বস্তি চলছিল। এমনকি একুশে জুলাইয়ের (21 July) আগের দিন ধর্মতলায় গিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর, মঞ্চেও ছিলেন না কেষ্ট। বরং সেই মঞ্চেই উঠে এসেছিলেন কাজল শেখ, যিনি বর্তমানে জেলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে, তাহলে কি কেষ্টের পাততাড়ি গোটানোর সময় এসে গিয়েছে?
রোববারই যাবতীয় প্রশ্নের নাটকীয় মোড়। বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছতেই সেই রাঙা বিতানে প্রথমে পৌঁছন কাজল শেখ। পরে, তিনি বেরোতেই হাজির হন অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে প্রায় দশ মিনিটের একান্ত বৈঠক হয় তাঁর। প্রকাশ্যে কিছু বলেননি অনুব্রত, তবে সেই সাক্ষাৎ জল্পনার আগুনে ঘি ঢালে।

এরই মধ্যে ভাইরাল হয় এক প্রশাসনিক সভার আমন্ত্রণপত্র। যা নিয়ে আরও চর্চা শুরু হয়। আগামী মঙ্গলবার ইলামবাজারে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক। সেই সভায় আমন্ত্রিতদের তালিকায় একেবারে প্রথম নাম অনুব্রতের। পদের ভিত্তিতে তিনি এখনও পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় গ্রামোন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান, সেটাই লেখা তালিকায়। আর তাঁর নীচেই— চার নম্বরে রয়েছেন কাজল শেখ (ফয়েজুল হক)।
তালিকায় এমন স্থান আর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রোববারের বৈঠক— সব মিলিয়ে কেষ্ট অনুগামীরা ফের স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন। যদিও কাজল শেখ এই চার নম্বরে নাম থাকা প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা কেবল অনুব্রতর ‘ব্যাক টু গ্রাউন্ড’ নয়, বরং জেলার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায়ের শুরু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর আর এই আমন্ত্রণ তালিকা— দুইয়ে মিলে বীরভূম নাকি কেষ্টভূম বলা দায়।