
শেষ আপডেট: 22 January 2023 05:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামের নবি মহম্মদের অবমাননা আটকাতে পাকিস্তানে (Pakistan) ধর্ম অবমাননা প্রতিরোধ আইন (Anti-blasphemy laws) আরও কঠোর করা হল। বর্তমান আইনে ইসলাম ও নবির (Prophet Muhammad) অবমাননার অপরাধে ন্যূনতম ১০ বছর জেলের সাজা রয়েছে। সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
পাক সংসদে বর্তমান সরকার গতকাল আইনটি সংশোধন করে তাতে নবির পরিবার-পরিজন-সঙ্গীদের অবমাননাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করছে। এই ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাজা হবে ১০ বছর জেল এবং ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা।
আইন সংশোধনের এই প্রয়াস ঘিরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সংখ্যালঘু সমাজ এবং মানবাধিকার রক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিবিরে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা প্রতিরোধের চলতি আইনটি ইতিমধ্যেই ভয়ঙ্কর বলে চিহ্নিত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ফাঁসানোর ঘটনা সামনে এসেছে। মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধেও আইনটির অপপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
পাকিস্তানে বিগত কয়েক বছর ধরেই ক্ষমতাসীন দল নিজেদের অপদার্থতা আড়াল করতে ইসলামকে হাতিয়ার করে মানুষকে ধর্মের বন্ধনে আবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে একাধিকবার অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে এই আইনটিকে আরও কঠোর করার মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমকে খুশি করার চেষ্টা হয়েছে।
এবারও তা ব্যতিক্রম নয়। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছেন তিনি ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। ভারতের সঙ্গেও শান্তি-বৈঠক চেয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ধর্ম অবমাননার আইন সংশোধন ঘিরে দেশে সংখ্যালঘু জনতা আরও চিন্তায় পড়েছে। এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে দেশে-বিদেশে বারে বারেই সমালোচনার মুখে পড়েছে পাক সরকার। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত এবং গোষ্ঠী বিবাদের ঘটনায় ধর্ম অবমাননার সাজানো অভিযোগে নিরীহ ব্যক্তিকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। এইভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া নাগরিকদের বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।
অনেক মুসলিমও আইনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। সমাজ জীবনে ধর্মকে এতটাই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যে পান থেকে চুন খসলে একজন আর একজনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আইন-আদালতে যাওয়ার আগে ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হচ্ছে মানুষ।
নতুন সংশোধনীর সুবাদে ইসলাম ও নবিকে অবমাননার অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত করার ফলে অপব্যবহারের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেল বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।
পাক সংসদের ডেপুটি স্পিকার জাহিদ আক্রাম দুরানি নয়া সংশোধনীকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে সাংসদদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’-এর এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্বরূপ ইজাজ বলেছেন, নয়া সংশোধনী ভয়ঙ্কর।
গাড়িতে সিটবেল্ট বাঁধেননি, ব্রিটেন পুলিশ ১০০ পাউন্ড জরিমানা করল প্রধানমন্ত্রী সুনাককে