
শেষ আপডেট: 9 November 2019 10:49
উদ্ধার হওয়া ম্যামথের দাঁত[/caption]
মেক্সিকো সিটির উত্তরে তুলতেপেক নামক স্থানে পাঁচ জনের একটি দল উৎখনন করছিলেন। শিকারীরা একজোট হয়ে কী ভাবে বড় মাপের মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কাবু করত, সেবিষয়ে তাঁরা গবেষণা করছেন। গবেষক দলের প্রধান হলেন লুইস কর্ডোভা বারাডাস। তাঁরা মনে করেন, মশাল জ্বালিয়ে ভয় দেখিয়ে ৬ ফুট গভীর ও ২৫ গজ গর্তের মধ্যে এনে ফেলত। তবে একটি হাতির খুলিতে একেবারে সামনের দিকে বর্শা দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
লুইস কর্ডোভা বারাডাস বলেন, “শিকারীরা যে ম্যামথদের উপরে হামলা করত, এর আগে এমন প্রমাণ তেমন পাওয়া যায়নি। এতদিন মনে করা হত, ম্যামথদের ভাগিয়ে এনে ডোবা বা গর্তে ফেলা হত, তারপরে তাদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু এই প্রথম এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া গেল, যাতে দেখা যাচ্ছে যে, ম্যামথদের সরাসরি আক্রমণ করে শিকার করা হত।”
জঞ্জাল ফেলার জায়গা করা হবে বলেও প্রথম খোঁড়া শুরু হয়, তখনই এখনে হাতির ফাঁদের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। গবেষকদের ধারণা, এই জায়গায় অন্তত ছটি হাতির দল থাকত।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সবেমাত্র হাড়গুলি পাওয়া গেছে, গবেষণা করে দেখতে হবে শিকারীরা ঠিক কী ভাবে তাদের শিকার করত। এ ব্যাপারে বহু প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। শুধুমাত্র ডান কাঁধের হাড় গেছেও বলেও গবেষকরা বিস্মিত। লুইস কর্ডোভা বারাডাস বলেন, “বাঁ কাঁধের হাড়গুলো (লেফট শোল্ডার ব্লেড) পাওয়া যাচ্ছে না – কেন?”
শুধু ম্যামথের হাড়গোড়ই নয়, আরও কয়েকটি প্রাণীর অবশেষও পাওয়া গেছে পনেরো হাজার বছরের পুরনো গর্তে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে উটের চোয়াল ও মেরুদণ্ডের হাড় এবং ঘোড়ার দাঁত। এই দু’টি প্রাণীও আমেরিকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বহু আগে।