দ্য ওয়াল ব্যুরো : চাকরির সুযোগ সৃষ্টি। উৎপাদন ভিত্তিক উৎসাহদান প্রকল্প। এই দু'টি বিষয়ের ওপরে জোর দিয়ে দেওয়ালির আগেই বিশেষ আর্থিক প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনা অতিমহামারীর ধাক্কায় বর্তমানে অর্থনীতির নেতিবাচক বিকাশ হচ্ছে। ৩০ জুন শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে জিডিপির সংকোচন হয়েছে ২৩.৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য আগেও একাধিকবার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রথমবার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয় গত মে মাসে। তার নাম ছিল 'আত্মনির্ভর ভারত'। তাতে ২১ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরিমাণ দেশের জিডিপি-র ১০ শতাংশের সমান। অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী আর্থিক প্যাকেজে নতুন চাকরি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে ভরতুকি দেওয়ার কথা বলা হতে পারে। সম্ভবত নিয়োগকারী ও কর্মচারী, উভয়ের তরফেই প্রভিডেন্ট ফান্ডে ১০ শতাংশ অর্থ দিতে পারে সরকার।
গত ৩১ মার্চ 'প্রধানমন্ত্রী রোজগার প্রোৎসহান যোজনা' শেষ হয়েছে। সেই প্রকল্প নতুন রূপে ফের ঘোষণা করা হতে পারে। তার অধীনে আগামী দু'বছর নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ভরতুকি দেওয়া হতে পারে। একটি সূত্রে খবর, যে কোম্পানিতে কর্মীর সংখ্যা ৫০ জন অথবা তার কম, সেখানে অন্তত দু'জন নতুন কর্মী নিয়োগ করতে বলা হবে। যে কোম্পানিতে কর্মীর সংখ্যা ৫০-এর বেশি, সেখানে অন্তত পাঁচজন নতুন কর্মী নিয়োগ করতে বলা হবে। তবেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ভরতুকি দেওয়া হবে। সম্প্রতি শ্রমমন্ত্রক থেকে এই ভরতুকির প্রস্তাব দ্দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আলোচনা হয়েছে।
কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর দাবি করেন, অপ্রত্যাশিত দ্রুত গতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। তিনি তথ্য দিয়ে বলেন, গত অক্টোবরে জিএসটি সংগ্রহ ছাড়িয়ে গিয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে এই প্রথম এত বেশি পরিমাণে জিএসটি আদায় হয়েছে। অন্যান্য করও আদায় হয়েছে ভাল পরিমাণে। ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেসের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। রেলে বৃদ্ধি পেয়েছে পণ্য পরিবহণ।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক মাসিক অর্থনৈতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষেই ভারতের অর্থনীতি কোভিড-পূর্ব স্তরে ফিরে যাবে। তার জন্য অবশ্য কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভকে ঠেকাতে হবে। অনেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না। তাঁদের জন্যই সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আরবিআই জানিয়েছে, দেশে চাহিদা বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।