
শেষ আপডেট: 7 October 2023 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে লোনক হ্রদ। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে হ্রদ ফেটে তছনছ করেছে সবকিছু। দুর্যোগ নেমে আসার অনেক আগেই নাকি এই হ্রদ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)। এই সংস্থাটি উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে পুরো সিকিমে ৩২০টি হিমবাহ হ্রদের সন্ধান পেয়েছে। যেগুলির মধ্যে ১৪টি বিপজ্জনক বলে জানিয়েছিল তারা। এবার উত্তর সিকিমের আরও একটি হ্রদ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। সে হ্রদটিও নাকি ভাঙনের মুখে। নাম ‘সাকো চো’। জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট।
ওই হিমবাহ-হ্রদ ফেটে গেলে ভাসতে পারে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স পর্যন্ত অংশও। কারণ, আচমকা হড়পা বানে জলস্ফীতি হলে, বিপদসীমা ছাপিয়ে যাবে ডুয়ার্সের নদীগুলি। ফলে ফের ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সাউথ লোনকের গ্লফ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত সিকিম ও বাংলায় ৫৩ জনের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে ২৬টিই মিলেছে পড়শি রাজ্যে। বাকিগুলি এরাজ্যের তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন অংশে পাওয়া গিয়েছে। ডুয়ার্সে বন্যা হলে তা আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মঙ্গন জেলার ওই হ্রদটি জলের চাপে যে কোনও মুহূর্তে ফেটে যেতে পারে। ফলে ফের ‘গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (গ্লফ) হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপদ এড়াতে লেক থেকে ১২ কিমি দূরে লাচেন উপত্যকার থাঙ্গু, চেলা ও ইয়াথাং গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খালি করে দেওয়া হয়েছে গ্যাংটক জেলার সিংতামের গোলিতার, মঙ্গনের দিকচু এবং পাকিয়ংয়ের রংপো আইবিএম এলাকা। তিস্তার জল দুকূল ছাপিয়ে রাস্তায় নেমে এলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধসে পড়বে বলেই আশঙ্কা বাংলার পূর্ত দফতরের।
উত্তর সিকিমের ১৬ হাজার ৪০৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ‘সাকো চো’ লেক। সাউথ লোনকের চেয়ে আয়তনে কম হলেও, এটির গভীরতা অনেক বেশি। গত কয়েকদিনে সেটির জলস্তর প্রায় ৬ মিটার বেড়েছে। তাই অশনি সঙ্কেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ৫৯৪ ফুট গভীর ‘সাকো চো’র উপরে রয়েছে এক হাজার মিটার উচ্চতার একটি হিমবাহ। উষ্ণায়নের কারণে সেই হিমবাহে ভাঙন ধরেছে। বরফগলা জলে হ্রদের গভীরতা আরও বেড়েছে। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা সেই হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছিল আগেই।
লোনক হ্রদ ফেটে সিকিমে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (জিএলওএফ)। তবে সিকিমের বুকে যে দুর্যোগ নেমে আসতে পারে, তা নিয়ে অতীতে বহু বার সতর্ক করেছিলেন গবেষকরা। গত পাঁচ দশকে এই হ্রদের গভীরতা দ্রুত বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জলস্তরও। বর্তমানে এই হ্রদের গভীরতা ১০ তলা বাড়ির সমান। দৈর্ঘ্যে আড়াই কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৬০০ মিটার। এই হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ায় এমন ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সিকিমে। এবার আরও এক হিমবাহ গলা হ্রদ ফেটে গেলে কত বড় বিপদ যে হতে পারে তা ভেবেই শিউরে উঠছেন পরিবেশবিদরা।