
শেষ আপডেট: 10 June 2019 13:38
শেষ তিন দিনে উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ মিলিয়ে মোট ৫ জন নাবালিকা অত্যাচারিতা হয়েছে। সর্বোপরি আলিগড়ের আড়াই বছরের শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর দুদিন পর থেকেই এই খবরগুলো সামনে আসতে থাকে। আলিগড়ের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পরেই এই কুশিনগরের ঘটনা সামনে এসেছে।
এছাড়াও কানপুরে ক্লাস ৯ এর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একটি সেমিনার চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছিল। ছাত্রীটির মা বাবা পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করার পরেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশেরই জালাউনেও রবিবার একটি মাঠে ৭ বছরের একটি মেয়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার দেহে ছিল না কোনও জামাকাপড়। পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্বামী প্রসাদ বলেছেন সম্ভবত ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ছোট্ট মেয়েটিকে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আবার রবিবার পাপ্পু খানকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পাপ্পু এবং ভীরু সিংয়ের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ রয়েছে। ভীরু পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা হামিরপুর জেলায় ১১ বছরের একটি মেয়ের ধর্ষণে অভিযুক্ত। সেখানকার পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট হেমরাজ মীনা বলছেন, “শুক্রবারই অভিযুক্তরা মেয়েটিকে টার্গেট করে নেয়, মদ্যপ অবস্থায় তারা রাতে মেয়েটিকে বাড়ির বাইরে থেকে তুলে নিয়ে যায় পাশেরই একটি কবরখানায়। মেয়েটি সে সময়ে তার বাড়ির বাইরে ঘুমিয়েছিল। কবরখানার মধ্যেই তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে তারা। ”
উত্তরপ্রদেশের একের পর এক এই ঘটনায় সমাজবাদী পার্টির সভাপতি আখিলেশ যাদব ও বহুজন সমাজ পার্টির সভাপতি মায়াবতী রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। অখিলেশ বলেন, "উত্তর প্রদেশ অপরাধের একটি আঁতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। " মায়াবতী বলেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে মানুষ ‘ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত’। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজ ও সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।
অন্যদিকে রবিবার মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলার একটি গ্রামে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ১৬ বছরের একটি ছেলেকে আটক করা হয়েছিল। সিহোরা থানার দায়িত্বে থাকা মহেন্দ্র সিং রাজপুত বলেন, “ছেলেটি তার বাড়ির বাইরে মেয়েটিকে খেলতে দেখে, তারপরেই ৪ বছরের মেয়েটিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিকৃত যৌনতায় মত্ত হয়ে পড়ে। ”
মধ্যপ্রদেশের ভোপালের একটি বস্তি থেকে শনিবার রাতে একটি ৮ বছরের মেয়ে উধাও হয়ে যায়। পরে তার দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৬ জন পুলিশ অফিসারকে রবিবার সাসপেণ্ড করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা উমাশঙ্কর গুপ্ত বলছেন, পুলিশ তৎপর হলে মেয়েটিকে হয় তো বাঁচানো যেত।
শিউরে উঠছে গোটা দেশ। নৃশংস শিশুহত্যার মিছিল দেখছে দেশবাসী।