দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইউপিএ সরকারের আমলে লোকপালের দাবিতে অনশন করে দেশ জুড়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। এবার ফের একই দাবিতে মহারাষ্ট্র সরকার ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তিনি নামছেন আন্দোলনে। বুধবারই আন্না ফের অনশন শুরু করতে চলেছেন। তাঁর অভিযোগ, দুই সরকারই লোকায়ুক্ত আইন পাশ করায়নি। লোকপাল নিয়োগ করতেও ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি আন্না মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে একটি চিঠি দেন। তাতে বলা হয়েছে, আহমেদনগর জেলার রলেগাঁও সিদ্ধি গ্রাম থেকে তিনি আন্দোলন শুরু করছেন। তারপর ২৯ জানুয়ারি দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসকেও লোকায়ুক্তের আওতায় আনা হবে।
মহারাষ্ট্র সরকারের হয়ে আন্নার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন মন্ত্রী গিরিশ মহাজন। তিনি প্রবীণ সমাজকর্মীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, আন্দোলন করবেন না। আপনার সব দাবিই পূরণ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আন্না তাঁকে বলেছেন, যতদিন না লোকায়ুক্ত আইন পাশ হবে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আন্নার দাবি, জাতীয় স্তরে লোকপাল এবং রাজ্যস্তরে লোকায়ুক্ত কার্যকর হোক। এছাড়া স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে নির্বাচনের পদ্ধতিতে কয়েকটি সংস্কারও দাবি করেছেন তিনি।
আন্না বলেছেন, পাঁচ বছর আগে লোকপাল আইন পাশ হয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকার এখনও লোকপাল নিয়োগ করেনি। গত চার বছরে মহারাষ্ট্রে লোকায়ুক্ত আইন পাশ হয়নি। গত বছর মার্চে আন্না রামলীলা ময়দানে অনশনে বসেন। তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তাঁর সব দাবিই পূরণ করা হবে। তখন তিনি আন্দোলন থামিয়ে দেন।
আন্নার কথায়, তারপরে ন’মাস কেটে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমার গ্রাম রলেগাঁও সিদ্ধিতে ৩০ জানুয়ারি থেকে অনশনে বসব। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজন বলেন, আন্নার প্রথম দাবি ছিল, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেড় গুণ বাড়াতে হবে। আমি মনে করি, সেই দাবি পুরণ করা হয়েছে।
সরকার যে লোকায়ুক্ত নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, সেকথা মেনে নিয়েছেন আন্নাও। তিনি মঙ্গলবার বলেন, সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোকায়ুক্ত নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ দিই। তার মানে এই নয় যে আমি অনশন করব না। আইন কার্যকরী না হওয়া পর্যন্ত আমি আন্দোলন চালিয়ে যাব।