
শেষ আপডেট: 25 January 2023 05:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত দাঙ্গা ও নরেন্দ্র মোদীকে জডি়য়ে বিবিসি-র (BBC) তৈরি তথ্যচিত্র (Documentary) সম্পর্কে রাহুল গান্ধী মুখ খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেস ছাড়লেন কেরলে দলের নবীন নেতা অনিলকুমার অ্যান্টনি (Anilkumar Antony)। তিনি কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress) আইটি সেলের প্রধান ছিলেন।
তবে তাঁর বড় পরিচয় তিনি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা একে অ্যান্টনির পুত্র। ইন্দিরা, রাজীব, নরসিংহ রাও এবং মনমোহন সিংয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানো একে অ্যান্টনি প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো কংগ্রেসের ক্রাইসিস ম্যানেজার। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে সরে থাকা এই প্রবীণ নেতা আবার আলোচনায় ফিরলেন ছেলের সিদ্ধান্তের কারণে।
অনিল গতকালই তাঁর দলীয় টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইট করে বলেন, বিবিসির তথ্যচিত্রর বিরুদ্ধে ভারত সরকারের পদক্ষেপগুলি সঠিক। ওই তথ্যচিত্র ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র। বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই এই তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে। সকল ভারতীয়র বিবিসির তথ্যচিত্রর নিন্দা করা উচিত।
অনিলের টুইটকে গোড়ায় দলের কেউই তেমন গুরুত্ব দেননি। বলা ভাল বাবার পরিচয় ভাঙিয়ে রাজনীতিতে ভেসে থাকা অনিলকে আক্রমণ করে কেউ তাঁর গুরুত্ব বাড়াতে চায়নি।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় খানিক পড়ে জন্মু-কাশ্মীরে রাহুল গান্ধী বিবিসির তথ্যচিত্রকে সমর্থন করায়। তাঁর বক্তব্য, সত্য কখনও চাপা থাকে না। সত্যের বদ গুণ হল, যতই তাকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা হোক না কেন সে সবর্দা বাইরে বেরিয়ে আসে। সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না।

রাহুলের কথায় গুরুত্ব পেয়ে যায় অনিলের টুইট। তাঁকে বলা হয়, টুইট ডিলিট করতে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। টুইট করেই জানান কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের কথা। সব পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন অ্যান্টনি পুত্র।
অনিলের সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের তেমন ক্ষতি না হলেও মুখ রক্ষা হল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের। গেরুয়া শিবির দেশ জুড়ে অভিযানে নেমেছে বিবিসির তথ্যচিত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে। অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সেনাকর্মী, আইনজীবী, প্রাক্তন বিচারপতিদের সই সংগ্রহ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। যদিও ভারতে তথ্যচিত্রটি রিলিজ করেনি বিবিসি। ভিন্ন উপায়ে সেটি দেখার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে দেশে। অনিল কেন্দ্রের এই সব সিদ্ধান্তেরই পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
কেন্দ্রের আপত্তি উড়িয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ২ আইনজীবীকে বিচারপতি পদে চায় সুপ্রিম কোর্ট