
শেষ আপডেট: 12 October 2023 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালত এও জানিয়েছিল, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ও সাংবিধানিক প্রধানের সম্পর্কের মধ্যে কোনও ইগো থাকা উচিত নয়। রাজ্যপাল বরং মুখ্যমন্ত্রীকে কফির নিমন্ত্রণ জানাতে পারেন। তার পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন রাজ্যপাল আনন্দ বোস। মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি রাজভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে খবর।
এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপালকে বলেছিল মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। প্রথম দফায় উনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চেয়েছেন। সেটা ভাল”।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যেভাবে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করা শুরু করেছিলেন, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন মমতা। তিনি পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্যপাল যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। কিন্তু রাজ্যপাল তা শোনেননি। বিষয়টি একপ্রকার জেদাজেদির পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে এক ধার থেকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ শুরু করেছিলেন তিনি।
রাজ্যপালের এহেন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই মামলায় পরাস্ত হন রাজ্যপাল। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয় যে, রাজ্যপাল আর অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ ওই নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের ওই বেঞ্চ আরও জানিয়ে দেয়, রাজ্যপাল অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসাবে যাঁদের নিয়োগ করেছেন, তাঁরা কোনও সুযোগ বা সুবিধা পাবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তাঁরা নিতে পারবেন না।
তবে হ্যাঁ অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের যে সব আপত্তি রয়েছে তা এখনও শোনেনি শীর্ষ আদালত। পরের শুনানিতে তা সুপ্রিম কোর্টে জানাবে রাজ্য। তা ছাড়া সার্চ কমিটিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা সরকারের প্রতিনিধি রাখা নিয়ে নবান্ন যে আবেদন করেছিল, তাতেও সাড়া দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের সেই প্রক্রিয়ার সমান্তরালে মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল মীমাংসা সূত্র খোঁজার প্রয়াস চলতেই পারে। এখন দেখার কোনও রফাসূত্র বেরোয় কিনা।