
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 April 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমবায়ের উন্নতির জন্য সিইএসসি-র (CESC) পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ চলে গেছে তৃণমূলের (TMC) ফান্ডে। আর এই কাজের পিছনে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সংস্থারই এক কর্মী। বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
আগামী ১৭ এপ্রিল সিইএসসি-র আওতায় থাকা সমবায় ব্যাঙ্কে ভোট রয়েছে। ১৪ বছর পর এই নির্বাচন হতে চলেছে। তার আগে স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সংস্থার এক কর্মী। তিনিই রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক এই অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে সমবায়ের উন্নতির জন্য তাঁদের সংস্থার পক্ষ থেকে ১৮.৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ তৃণমূলের ফান্ডে চলে যায়। এই কাজের মূল কাণ্ডারি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
শুধু তাই নয়, এই নির্বাচনে কারচুপি নিয়েও শোভনদেবকে বিঁধেছেন ওই মামলাকারী। অভিযোগ, ভোটের আগে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে প্রভাব খাটানো হয়েছে। তৃণমূল ঘনিষ্ট ছাড়া কাউকেই মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এমনকী, কেউ মনোনয়ন জমা দিতে চাইলে তাঁকে মারধরও পর্যন্ত করা হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন সংস্থার কর্মী।
মামলকারী হাইকোর্টের আরও জানিয়েছেন, ২০১১ সালের পর থেকে তাঁদের সংস্থার সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট আর হয়নি। তবে ২০১৩ সালে রাজ্য সরকার পুরনো বোর্ড ভেঙে নমিনেশনের মাধ্যমে ডিরেক্টর নির্বাচিত করে। সেই বোর্ড এখনও চলছে। কিন্তু এতদিনেও ভোট ঘোষণা হচ্ছিল না। শেষমেশ আগামী ১৭ তারিখ সমবায় নির্বাচন হতে চলেছে। কিন্তু এখনও কোনও ড্রাফট ভোটার তালিকা তৈরি হয়নি। ফলে কারা ভোটার সেটাই স্পষ্ট নয়। মামলাকারীর সন্দেহ, এবারের ভোটেও কারচুপি হবে, তাই বারংবার বলা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এইসব অভিযোগকরে অবশ্য গুরুত্বই দেননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, এমনই ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন জেতে। তাই তাঁদের আলাদা করে মারপিট করার দরকার পড়ে না। পাশাপাশি, আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ তাকেও মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন শোভনদেব।