দ্য ওয়াল ব্যুরো: উল্কার সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রহাণুতে ফাটল ধরেছে। পৃথিবীর দিকে তীব্র বেগে ছুটে আসছে গ্রহাণু থেকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন টুকরো। চরম বিপদ উপস্থিত। পৃথিবীর সঙ্গে টক্কর হলে দাউ দাউ করে জ্বলতে জ্বলতে সেই সব টুকরো নেমে আসবে পৃথিবীর বুকে। অতএব উপায়। নিউক্লিয়ার অস্ত্রে মহাজাগতিক বিপদকে আটকানোর উপায় বললেন এক বিজ্ঞানী ডক্টর পল ব্র্যাডলে। সিনেমাপ্রেমীদের হার্টথ্রব ‘জেমন বন্ড’ শন কনারি। বিখ্যাত সেই সায়েন্স ফিকশন ছবির নাম ‘মেটিওর’ । জেমস বন্ড এখন চিরনিদ্রায়। তবে তাঁর অভিনীত ছবি ও চরিত্রকে সম্মান জানিয়েই মহাকাশে তাঁরই নামে এক গ্রহাণুর নামকরণ করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
৯০ বছরে চলে গেলেন শন। বাহামাসের রাজধানী নাসাউয়ে নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছেন হলিউডের প্রথম বন্ড শন কনারি। লক্ষ লক্ষ মহিলা শুধু নয়, শন কনারির সোয়াগ নকল করতেন পুরুষরাও। ‘দ্য নেম ইজ বন্ড..জেমন বন্ড’ বলে যখন বন্দুক তাক করতেন, হার্টবিট থমকে যেত অনেকেরই। স্পাই থ্রিলারের চরিত্রের বাইরেও নানারকম চরিত্রে মন জিতেছিলেন শন। সায়েন্স ফিকশন ছবিতেও তাঁর আবেদন ছিল অনন্য। তেমনই একটি ছবি ছিল ‘মেটিওর।’
https://twitter.com/AsteroidWatch/status/1323049209939963904
১৯৭৯ সালের ছবি। মহাকাশবিজ্ঞান তখন একটু একটু করে পুষ্ট হচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, ধূমকেতু, উল্কা, গ্রহাণু বা মহাজাগতিক বস্তুর থেকে পৃথিবীকে রক্ষার উপায় খোঁজা হচ্ছে তখন। মাঝে মাঝেই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে থাকা অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট থেকে গ্রহাণুরা ছিটকে চলে আসে পৃথিবীর ধারে কাছে। অথবা ধূমকেতু, গ্রহাণু থেকে বিচ্ছিন্ন টুকরো উল্কাবৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরে পৃথিবীর বুকে। এদের গতিপথ নজরে রাখার জন্যই তখন প্ল্যানেটারি অফিসার নিয়োগ করেছিল নাসা। শনের ‘মেটিওর’ সিনেমা এই ভাবধারার উপরেই। কীভাবে মহাজাগতিক বস্তুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পৃথিবীর প্রাণীজগতকে রক্ষা করা যায়।
‘মেটিওর’ সিনেমাতে দেখানো হয়েছিল অ্যাস্টেরয়েড বেল্টের গ্রহাণু অরফিয়াস থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য ডক্টর পল ব্র্যাডলে ওরফে শন কনারি পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের কথা ভাবছেন। নিউক্লিয়ার মিসাইল প্ল্যাটফর্ম স্যাটেলাইট ‘হারকিউলিস’ এর প্রয়োগের জন্য নাসার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। সিনেমার প্লট এই আধারের উপরেই এগিয়েছে। নাসা বলেছে সেই সময় দাঁড়িয়ে এমন ভবিষ্যত ভাবনার উপর ভিত্তি করে ছবি বা চরিত্র হয়নি। শন কনারি সেখানে নতুন মাইলস্টোন তৈরি করেছিলেন।
https://twitter.com/NASASolarSystem/status/1322620473306312704
অ্যাস্টেরয়েড ১৩০৭০ নাম অভিনেতার নামেই হয়েছে অ্যাস্টেরয়েড ১৩০৭০ শনকনারি। এ বছরেরই ৪ এপ্রিল ১.৫ মিটার সার্ভে টেলিস্কোপে এই গ্রহাণুকে পর্যবেক্ষণ করেন নাসার বিজ্ঞানীরা। অ্যাস্টেরয়েড বেল্টে এই গ্রহাণুর গতিপথের ভিডিও সামনে এনেছে নাসা।
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অ্যাস্টেরয়েড বেল্টে ঘুরপাক খাচ্ছে অ্যাস্টেরয়েড ১৩০৭০ শনকনারি। ১৯৯১ সালেই এমন একটি গ্রহাণুর খবর দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এর পরিধি ১.৭৬৪ কিলোমিটার। নাসা জানিয়েছে, স্কটিশ তারকা শন কনারির নামেই এখন থেকে পরিচিত হবে এই গ্রহাণু।