দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামাতে আত্মঘাতী জইশ হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ৪০ সিআরপিএফ জওয়ানের। সেই হামলার ক্ষত এখনও টাটকা। এর পরেও একাধিকবার পুলওয়ামাকে নিশানা করেছে জঙ্গিরা। হামলা চলেছে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান-সহ উপত্যকার নানা জায়গায়। সীমান্ত পার থেকে প্রায় নিত্যদিন নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি ছুড়ে চলেছে পাক সেনারা। ফের একবার জঙ্গি তাণ্ডবে অশান্তি ছড়াল বারামুলা জেলার সোপোরে।
সেনা সূত্রে খবর, বাড়িতে ঢুকে এক সিআরপিএফ জওয়ানের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় একদল জঙ্গি। যদিও এই জঙ্গি দল কোন সংগঠনের সেটা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার পরই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও সেনা। তবে জঙ্গিদের নাগাল পাওয়া যায়নি।
নিহত জওয়ানের নাম মহম্মদ রফি ইয়াতো। পুলিশ জানিয়েছে, জওয়ানকে যখন উদ্ধার করা হয় তাঁর শরীরে একাধিক বুলেট ক্ষত ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই উপত্যকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে। জঙ্গিদের গোপন ডেরার খোঁজে জায়গায় জায়গায় চলছে সেনা, পুলিশ অভিযান। গত ফেব্রুয়ারিতেই সোপোরের ওয়ারপোরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা।
দিন কয়েক আগে সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানে পুলওয়ামার লসিপোরা এলাকায় খতম হয় চার লস্কর জঙ্গি। উদ্ধার হয় চারটি রাইফেল-সহ প্রচুর পরিমাণ গুলি এবং কার্তুজ। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিনেই রক্তাক্ত হয়েছিল উপত্যকা। ৪০ সিআরপিএফ জওয়ানের রক্তে ভিজেছিল পুলওয়ামা। ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদত পুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। তার তিন দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার পিংলিশ গ্রামে গুলিযুদ্ধে তিন জঙ্গিকে খতম করে সেনা। তাদের মধ্যে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড কামরানও ছিল। এর পরে ঘাত-প্রত্যাঘাত ঘিরে এখনও অশান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা ও তার সংলগ্ন একাধিক এলাকা। বারে বারেই সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জম্মু, রাজৌরি, পুঞ্চের ৫৫টি ভারতীয় চৌকিতে গুলি বর্ষণ করে চলেছে পাক সেনারা।