দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস দেড়েকের লড়াই শেষে গতকাল, রবিবার মারা গিয়েছেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সারা বাংলায় তো বটেই, দেশের নানা প্রান্ত থেকেও এসেছে শোকবার্তা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটা অধ্যায় যেন শেষ হয়ে গেল তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে।
অভিনেতার মৃত্যুতে নতুন এক পোস্টার টুইট করল আমুল। এই প্রথম কোনও শিল্পীকে উতসর্গ করে বাংলা ভাষায় পোস্টার তৈরি করল এই সংস্থা। আমূলের সাদা-কালো পোস্টারে লেখা, 'বাংলা মিত্রহীন'। আমূলের এই কীর্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। এ কাজে শিল্পের সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্তির যে মিশেল, তা মুগ্ধ করেছে অনেককেই।
'আটারলি বাটারলি ডেলিসিয়াস' আমূল কোম্পানি বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ধীরে ধীরে তাদের ফ্যান ফলোয়ারের সংখ্যাও বাড়ছে তাই। এই প্রথম নয়। এর আগেও বহু ক্ষেত্রেই এমন মজার ও বুদ্ধিদীপ্ত বিজ্ঞাপনী পোস্টার বানিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে তারা। শুধু ভারতের নয় সারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে নিয়ে তাদের বিজ্ঞাপন সর্বত্র সাড়া ফেলেছে। অনেকের মতেই অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় আমূলের বিজ্ঞাপন অনেক বেশি মনোগ্রাহী ও সময়োপযুক্ত।
তবে এবার কোনও মজা নয়, শোকের বার্তাকেও খুবই সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছে তারা। পোস্টারের ক্যাপশনে তারা লিখেছে, "বাংলা তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক রত্নকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ!"
https://twitter.com/AmulBangla/status/1327959545344184320
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি, কৃষ্ণনগরে। তাঁর বাবা ছিলেন মোহিত কুমার চট্টোপাধ্যায় এবং মা আশালতা চট্টোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগরেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা তাঁর। এরপর চাকরি সূত্রে বাবা চলে আসেন হাওড়ায়। তারপর বাকি স্কুল জীবন কাটে হাওড়া জিলা স্কুলে। এরপর আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে স্নাতক হন সৌমিত্রবাবু।
স্কুল জীবন থেকেই নাটক, আবৃত্তি করতেন তিনি। কলেজে পড়ার সময়েই রেডিওতে কাজ করা শুরু। ১৯৫৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসার ছবিতে কাজ করেন তিনি। সেই তাঁর সেলুলয়েডে অভিষেক। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সত্যজিৎ রায়ের ১৪টি ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। সোনার কেল্লা এবং জয়বাবা ফেলুনাথে ফেলুদার চরিত্রে সৌমিত্রবাবুর অভিনয় কালজয়ী হয়ে রয়েছে।
মাস দেড়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন সৌমিত্রবাবু। তারপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক কোমর্বিডিটি ছিল তাঁর। হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথম দুদিন ভাল ছিলেন সৌমিত্রবাবু। তার পর থেকেই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। অবস্থার অবনতি হওয়ার পরই তাঁকে আইটিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশনে সমস্যা হচ্ছিল প্রবীণ অভিনেতার। মাঝে জানা যায় তাঁর মূত্র নালিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গত কয়েকদিন চিকিত্সায় সাড়া দিচ্ছিলেন না বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁকে ভেন্টিলেশনেও দেওয়া হয়। মস্তিষ্কে স্নায়ুর সমস্যাও দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত গতকাল, রবিবার জীবন যুদ্ধে হার মেনেছেন সৌমিত্রবাবু।