দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করল ভারত বায়োটেক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ের জেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে প্রথম নাম লিখিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তারিক মনসুর।
প্রথম টিকার ইঞ্জেকশন নেবেন উপাচার্যই, নিজেই টুইট করে এ কথা জানিয়েছেন। টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, বিজ্ঞানের গবেষণায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার জন্যই তাঁর এই উদ্যোগ। টিকার ট্রায়ালে অংশ নিতে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসার আবেদনও করেছেন তিনি।
https://twitter.com/ProfTariqManso1/status/1326138733704343555
আইসিএমআর জানিয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়ালে অংশ নিতে কমিটি তৈরি করা হয়েছে। টিকার পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে আবেদন করা হয়েছে চিকিৎসক, আইনজীবী, সমাজকর্মী থেকে সমাজের সব পেশার মানুষজনকেই।
দেশে তৈরি করোনা টিকার ট্রায়ালে এখনও এগিয়ে রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক। যার মধ্যে ভারত বায়োটেক ঘোষণা করেছে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই টিকার ডোজ বাজারে আনা হতে পারে। সেই হিসেবে টিকার বিতরণের জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দেশে ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য গাইডলাইন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। যার মধ্যে চারটি ক্যাটেগরিতে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম টিকা পাবেন ডাক্তার, নার্স তথা স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারি পড়ুয়ারা। এর পরে পুলিশ, প্রশাসনিক কর্তা ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের টিকা দেওয়া হবে। পরের দুই ক্যাটেগরিতে থাকবেন প্রবীণ ও কোমর্বিডিটির রোগীরা।
গত ২ অক্টোবর টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালের জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি চেয়েছিল ভারত বায়োটেক। নানা কারণে সেই আবেদন মঞ্জুর হতে দেরি হয়। কীভাবে টিকার ট্রায়াল হবে এবং কতজনকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে তার নিয়ম বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা জানিয়েছে, তৃতীয় পর্বে ২৮ হাজার ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই, পাটনা, লখনৌ সহ দেশের ১০ রাজ্যের ১৯টি শহরে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট দেখেই উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই টিকার পর্যাপ্ত ডোজ চলে আসবে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। এই টিকার প্রথম দুই পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রিপোর্ট ভাল বলেই দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার ভাইরোলজিস্টরা।
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে তৃতীয় পর্বে অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন রোগীদের উপর টিকার ডোজের পরীক্ষা হবে। ইমিউনোজেনিসিটি ডেটা অর্থাৎ টিকার ডোজে নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে কতটা রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়েছে তার তথ্য জমা করতে হবে।