
শেষ আপডেট: 19 April 2020 18:30
দু’সপ্তাহের মধ্যে এই টেস্ট কিট বানানো হয়েছে, বলেছেন গবেষক নাদিম। জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকারের উদ্যোগেই এই টেস্ট কিট বানানো শুরু হয়। হটস্পট চিহ্নিত এলাকাগুলোতে খুব দ্রুত একসঙ্গে অনেক মানুষের স্ক্রিনিং করার জন্য এই টেস্ট কিট কাজে আসবে। ছোট ছোট ক্লাস্টার জ়োনগুলিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই টেস্ট কিট দিয়ে স্ক্রিনিং করা সম্ভব। কারও শরীরে সংক্রমণ রয়েছে কিনা সেটা দ্রুত ধরা যাবে এই টেস্ট কিটে।
রিয়েল টাইম পলিমারেজ টেস্ট বা আরটি-পিসিআর (Rt-PCR)হল এমন একটি টেস্ট যাতে ধরা যায় শরীরে বাসা বাঁধা ভাইরাসের জিনোমের প্রকৃতি কী। অর্থাৎ সেটি আরএনএ ভাইরাস কিনা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে আরটি-পিসিআর টেস্টেই নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে এই টেস্ট করতে বহু সময় লাগে এবং খরচও অনেক। চটজলদি পরীক্ষার জন্য স্ক্রিনিং-টেস্ট কার্যকরী। অ্যান্টিবডি টেস্ট হল এমনই একটি স্ক্রিনিং-টেস্ট (Screening Test)। ভাইরাস আক্রান্ত হলে শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তার বিশ্লেষণ করেই ওই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা সেটা ধরা যায় অ্যান্টিবডি টেস্টে।
গবেষক নাদিম বলেছেন, দেশের সবকটা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বহু মানুষের ভিড়। তাঁদের মধ্যে কারা কারা সংক্রামিত সেটা দ্রুত ধরা যাবে এই টেস্টের মাধ্যমেই। এই অ্যান্টিবডি টেস্টও খুব সহজ পদ্ধতিতে করা হয়। এই টেস্ট কিটের মাধ্যমে আঙুল থেকে এক ফোঁটা রক্ত নিয়েই জানা যাবে সংক্রমণ রয়েছে কিনা। এই স্ক্রিনিং টেস্ট করে আক্রান্ত রোগীদের যদি আলাদা করে শনাক্ত করা যায়, তাহলেই তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব। একদিনেই বহু রোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একজন যদি কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়, তাহলে তার সংস্পর্শে আসা ১০০০ জনকে একদিনেই স্ক্রিনিং করা সম্ভব হবে এই টেস্ট-কিটের মাধ্যমে।
“এই টেস্ট কিট বাজারে আনা হচ্ছে। আইসিএমআরের অনুমতি নিয়েই আরও বেশি টেস্ট কিট তৈরি করছি আমরা। খুব তাড়াতাড়ি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোম, প্যাথোলজি ল্যাবেও পৌঁছে যাবে এই টেস্ট কিট,”বলেছেন নাদিম রহমান। তাঁর বায়োটেক ফার্ম কাজ করছে ২৫ বছর ধরে। নাদিম বলেছেন, দেশের নানা সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করে এই সংস্থা। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে এমএসসি করার পরে ব্রিটেনের একটি পার্মা কোম্পানিতে ম্যানেজারের পদে ছিলেন নাদিম। পরে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও মার্কেটিংয়ে এমবিএ করেন।
আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ের সব উপাচার্য অধ্যাপক তারিক মানসুর বলেছেন, “আমরা গর্বিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক প্রাক্তনী এমন টেস্ট কিট বানিয়েছে। দেশের এই জটিল সময়ে লড়াইয়ে আমরা সকলেই নাদিমের পাশে আছি।”
নাদিম বলেছেন, আরটি-পিসিআর টেস্ট-কিটের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ লাখ অ্যান্টিবডি টেস্ট-কিটও দরকার। মুম্বই, পুণে, হায়দরাবাদ, ভোপাল, দিল্লিতে এখনও দামি আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট দিয়েই স্যাম্পেল পরীক্ষা হচ্ছে। সে জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট চলে এলে তাড়াতাড়ি স্ক্রিনিং করা সম্ভব হবে।