
শেষ আপডেট: 22 October 2018 10:33
গৌরবের ভাই রাহুল বলছেন, “দুর্ঘটনার কিছু ক্ষণ আগেই আমি গিয়েছিলাম দশেরার শুভেচ্ছা জানাতে। দিদি, জামাইবাবু স্প্রিংরোল আর জিলিপি খাওয়াল… বাচ্চাগুলো ‘মামু…মামু’ করছিল। কয়েক বছর আগে আমাদের বাবা-মা চলে গিয়েছেন, এবার দিদির পরিবারও চলে গেল।"
গৌরব-রাহুলদের এই হা-হুতাশএকটি পরিবারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিবপুরি দুর্গিয়ানা শ্মশানের যে কোনও দিকে চোখ মেললেই এমন আক্ষেপ ঘুরপাক খাচ্ছে। স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় মানুষগুলো যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন। এর মধ্যেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দুর্ঘটনায় মৃত ১৬ বছরের কিশোর শচিন সিং-এর বাবা নভোজিত সিং। পুত্রশোকে আকুল বাবার প্রশ্ন, “এই প্রথম আমার ছেলে মেলা দেখতে গিয়েছিল, কিন্তু আর ফিরল না। দেশের যাবতীয় নিরাপত্তা কি কেবল ভিআইপিদের জন্যই? কেন ওরকম জায়গায় রাবন দহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? ওখানে আগুন এবং ট্রেন দু'টোই ছিল, কেউ এটা দেখল না কেন?" আর কারও সন্তান যেন না যায় রাবণ পোড়া দেখতে, আকুতি ঝরে পড়ে তাঁর কান্না গলায়।
রবিবারের শ্মশানে যে শুধু ৩৮টা দেহ পুড়ছে তা-ই নয়, সেই সঙ্গে পুড়েছে বিশ্বাসও। পৌরাণিক গল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং তার অভিঘাতে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে যেন উলাট পুরাণ ঘটে গিয়েছে মানুষের ভিতরে। তাই তো যে রাবণ-দহনকে শুভ শক্তির দ্বারা অশুভ শক্তির বিনাশের উদযাপন হিসেবে পালন করা হয়েছে এত কাল, সেই উদযাপনকেই আগামী দিনের জন্য বয়কট করতে চলেছে মৃত্যুপুরী-সম শহর।