
শেষ আপডেট: 16 November 2023 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেন থেকে পড়ে কাটা গিয়েছিল দু’টো পা। সহযাত্রী ও রেলকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন তাঁকে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা তড়িঘড়ি অপারেশন করেও বাঁচাতে পারেননি পা দু’টি। হাঁটুর নীচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। এটুকু আরও অনেক দুর্ঘটনার মতো শোনালেও, এরপরের কাণ্ড কিন্তু রীতিমতো অবাক করা। অভিযোগ, বাড়ির লোকেরা দেখতে গেলে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় কাটা পা-দু’টি। রোগীর ব্যান্ডেজ করা কাটা পা হাতে নিয়ে পরিজনকে বেরিয়ে আসতে দেখে বিস্মিত পুলিশও।
সোমবার লক্ষ্মীকান্তপুর যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে পড়ে যান মহম্মদ রাজ নামে ট্যাংরার বাসিন্দা ওই যুবক। ট্রেনের চাকার তলায় পড়ে দুটো পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মরণাপন্ন অবস্থায় তাঁর সহযাত্রীরা নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। অপারেশন করে তাঁর দুটো পা বাদ দেন ডাক্তাররা। অভিযোগ, মহম্মদ রাজের দাদা হাসপাতালে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নার্স তাঁর হাতে কাটা পা দুটো ধরিয়ে দেন। তিনি বলেন, “কাটা পা দুটো নিয়েই আমি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে বেডে পা-দুটো রেখে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন ওখানকার নার্স আমাকে ধমক দেয়। কাটা পা নিয়ে বেরিয়ে যেতে বলে।”
ব্যান্ডেজ বাঁধা কাটা পা-দু’টি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার সময় পুলিশের সামনে পড়েন তিনি। তাঁরাও তাঁকে ধমক দেন। বিষয়টি জেনে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে নার্সদের সঙ্গে কথা বলে পা দুটো মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে। কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা, সেই খোঁজ শুরু হয়। বায়ো মেডিক্যাল ওয়েস্ট নষ্টের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই নিয়ম না মেনেই কেন কাটা পা পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হল সেই প্রশ্ন উঠছে।
এনআরএস হাসপাতালের এমএসভিপি ইন্দিরা দে বলেন, “আমি শুনেছি ব্যাপারটা। এটা নিয়ে বসতে হবে।রোগীর পরিজনরা চাইলে দেহের অংশ তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায়। আমরা ওইভাবেই ডিসপোজ় করি। কিন্তু তার একটা নিয়ম আছে। পুরোটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।“