
শেষ আপডেট: 30 November 2023 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বেলা যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক। ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের বাড়ির দু'টি শোওয়ার ঘরে ব্যাগ ভর্তি টাকা মিলেছে বলে সিবিআই সূত্রে দাবি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ সিবিআই আধিকারিকরা জাফিকুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয়। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন চলায় বিধায়ক এখন কলকাতায়। মুর্শিদাবাদের বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী-কন্যা। তাঁদের উপস্থিতিতেই শুরু হয় তল্লাশি। সিবিআই এর দাবি, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ভিত্তিতেই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। সার্চ ওয়ারেন্ট দেখিয়েই চলছে তল্লাশি। মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে জাফিকুল দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। কোনওদিন ছিলও না। সিবিআই অফিসাররা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবরকমভাবে সাহায্য করবেন তিনি।
তল্লাশি শুরুর পরেই বিধায়কের বাড়ির দু’টি ঘরে ব্যাগভর্তি টাকার সন্ধান মেলে। পাঁচ-দশ-পনেরো করে বাড়তে থাকে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক। শেষপর্যন্ত টাকা গুনতে ডোমকলের একটি ব্যাঙ্ক থেকে মেশিন নিয়ে আসেন সিবিআই আধিকারিকরা। তারপরেই নতুন উদ্যমে শুরু হয় টাকা গোনার কাজ। সন্ধের পরেও কাজ চলতে থাকে। এই মেশিন ঢুকতে দেখেই আলোড়ন পড়ে এলাকায়। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কলকাতার বাড়িতে রাখা টাকা গুনতে মেশিন আনতে হয়েছিল।
বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেন কিছুদিন আগে একটা জায়গা বিক্রি করেছিলেন তিনি। সেই টাকার থেকেই ২৪ লক্ষের কিছু বেশি টাকা তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, “জায়গা বিক্রি করা হয়েছে। তার দলিল সিবিআইকে দেখানো হয়েছে। আমি আমার স্ত্রী ও মেয়েকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলেছি।” সিবিআই আধিকারিকদের পাল্টা দাবি, দু-লক্ষ টাকার বেশি কখনওই বাড়িতে রাখা যায় না। এদিন টাকা ছাড়াও তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি থেকে বেশকিছু গয়নাও বাজেয়াপ্ত করেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। এগুলির কোনও বৈধ কাগজ নেই বলে আধিকারিকদের দাবি।
জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কলেজ রয়েছে জাফিকুল ইসলামের। বিএড, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মাসি কলেজ রয়েছে তাঁর নামে। এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা বিধায়কের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়।