ওই তল্লাশি অভিযানের পর রাজ্যের শাসক দল কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিচ্ছে বা নিতে পারে, সেই বিষয়টিও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

অমিত শাহ, প্রতীক জৈন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 January 2026 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'যত দ্রুত সম্ভব গোটা ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে', আইপ্যাকের অফিস (ED Raid I-PAC) ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain ED Raid) বাড়িতে তল্লাশির সময় তদন্তে কী ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এ বার ইডির থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Home Ministry)।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন তদন্তকারীদের কাজে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা বা অতিসক্রিয়তা কতটা ছিল, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই সময় কী দায়িত্ব পালন করেছিল— এই সব বিষয়ই স্পষ্ট করে জানাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই প্রাথমিক কিছু তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়েছিল ইডি। তবে এ বার আরও বিশদ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, ওই তল্লাশি অভিযানের পর রাজ্যের শাসক দল কী ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিচ্ছে বা নিতে পারে, সেই বিষয়টিও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কলকাতার ইডি দফতর প্রথমে রিপোর্ট তৈরি করে তা দিল্লির দফতরে পাঠাবে। সেখান থেকেই সেই রিপোর্ট পৌঁছবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইডির আধিকারিকেরা রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালান। দুপুর আনুমানিক ১২টা নাগাদ, তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অভিযোগ, সেখান থেকে তিনি একাধিক ফাইল ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তুলে নেন। পরে প্রতীকের বাড়ি থেকে সরাসরি আইপ্যাকের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেও কিছু নথি গাড়িতে রাখা হয় বলে দাবি। বিকেল ৪টা ২২ মিনিট নাগাদ আইপ্যাকের দফতর ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।
ইডির অভিযানের পর দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এই তল্লাশি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযান চালিয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে চুরি করা হয়েছে। আইপ্যাকের দফতরে দাঁড়িয়েই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র আক্রমণ করেন।
অন্য দিকে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার পাল্টা বক্তব্য, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। ইডির দাবি, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলায় আইপ্যাক ও ইডিকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে দুই পক্ষের দায়ের করা মামলারই শুনানি হওয়ার কথা।