দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লির নর্থ ব্লক সূত্রে খবর, শনিবার বা রবিবার অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
সূত্রের মতে, নর্থ ব্লকের তরফে সেই ‘ইন্টিমেশন’ অ্যাপোলোকে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ শুক্রবার রাতে কলকাতায় আসছেন। তার পর শনিবার বা রবিবার কোনও এক সময়ে হাসপাতালের সুবিধামতো ও সৌরভের শরীর স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি বুঝে তিনি অ্যাপোলোতে যেতে আগ্রহী।
তবে নবান্ন সূত্রের খবর, তার আগেই সৌরভকে দেখতে হাসপাতালে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও সৌরভকে দেখতে উডল্যান্ডসে গিয়েছিলেন মমতা।
সৌরভকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এমনিতেই জল্পনা রয়েছে। তৃণমূলের অনেকেই চান, সৌরভ যেন গেরুয়া শিবিরের দিকে না ঝুঁকে পড়েন। বিজেপির অনেকেই আগ্রহী একুশের লড়াইয়ে সৌরভকে পাশে পেতে। আবার সিপিএম নেতা তথা সৌরভের বহুদিনের শুভাকাঙ্ক্ষী অশোক ভট্টাচার্য বাড়ি বয়ে বলে এসেছেন, ভাই তুমি রাজনীতিতে নেমো না।
সৌরভের শরীর স্বাস্থ্যের এখন যা পরিস্থিতি তাতে একুশের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই চিকিৎসকদের অনেকের মত। কারণ, তাঁর একটি ধমনীতে স্টেন্ট বসেছে। আরও দুটি ধমনীতে স্টেন্ট বসবে। চিকিৎসার দাবি হল, এর পর সৌরভ অন্তত যেন এক মাস বিশ্রামে থাকেন।
সৌরভের বন্ধু মহলের কারও কারও মতে, মহারাজ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চান। তবে হ্যাঁ, বিজেপির জন্য ইনফ্লুয়েন্সারের ভূমিকা নিতে পারেন। মানে এই যে, এটুকু ঠারেঠোরে বোঝাতে পারেন যে মোদী-অমিত শাহদের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে।
এ হেন পরিস্থিতিতে নজর করার মতো বিষয় হল, সৌরভের অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রথম দিন থেকেই মোদী, অমিত শাহ, জয় শাহ সৌরভের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। এমনকি অমিত শাহ চেয়েছিলেন সৌরভকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে এইমসে চিকিৎসা করাতে। তা ছাড়া বিজেপি সূত্রের মতে, অমিত শাহ কলকাতায় আসার পর সৌরভের বাড়ি যাওয়ারও প্ল্যান ছিল। কিন্তু সৌরভ ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বার হাসপাতালেই যেতে পারেন তিনি।
তবে অমিত শাহর অফিসিয়াল ট্যুর প্ল্যানে সেটা এখনও ঢোকানো হয়নি। কারণ, স্টেন্ট বসানোর পরে সৌরভের শরীর কেমন থাকে, কারও সঙ্গে দেখা করার মতো পরিস্থিতিতে তিনি থাকেন কিনা, ডাক্তাররা তার অনুমতি দেন কিনা সে সবের উপরে বাকিটা নির্ভর করছে।