দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্ষেপে জেএএম-বা জ্যাম (jam)। বিজেপির দৃষ্টিতে জে-তে হল জনধন, এ-কে আধার এবং এম-হল মোবাইল। আর সমাজবাদী পার্টির চোখে নাকি জে মানে জিন্নাহ (মহম্মদ আলি জিন্নাহ), এ-তে আজম খান এবং ম-তে মুখতার (মাফিয়া ডন থেকে রাজনীতিক মুখতার আনসারি।
শনিবার উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের জনসভায় এভাবেই ধর্মীয় মেরুকরণকে (polarization) নয়া মাত্রা দিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (amit shah)। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট উপলক্ষে এদিনই ছিল অমিত শাহের প্রথম জনসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের সংসদীয় এলাকা পূর্ব উত্তর প্রদেশের আজমগড়। অমিত শাহের সফর শুরুর মুখে অখিলেশ (akhilesh) বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিলেন, উত্তর প্রদেশে বিজেপি ক্ষমতা হারাতে চলেছে বুঝতে পেরে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সদলবলে এই রাজ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। এদিন অখিলেশের গড়ে বড় জমায়েত থেকে তাঁকে পাল্টা দেন অমিত।
বিজেপির ভোট প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে শুক্রবার দু’দিনের সফরে অমিত শাহ বারানসী যান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারানসীকে এ জন্য বেছে নেওয়ার শুক্রবার দলীয় কর্মীদের সভাতেই অমিত শাহ স্পষ্ট করে দেন। বলেন, ২০২২-এ উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সেমিফাইনাল। তাই ২০২৪-এ দিল্লির কুর্সি দখলে রাখার সংকল্প নিয়ে বিধানসভা ভোটের জন্য ঝাঁপাতে হবে। আর সেই লক্ষ্যপূরণে উন্নততর ধর্মীয় মেরুকরণই যে বিজেপি কৌশল শনিবারের ভাষণে তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গেরুয়া শিবিরের কৌশল মাথায় রেখে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ সমাজবাদী পার্টিও পাল্টা মেরুকরণের চাল দিচ্ছে। অখিলেশ যাদব সম্প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান দাবিদার মহম্মদ আলি জিনহার স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার বল্লভ ভাই পটেলের সঙ্গে সমান মর্যাদা দেন তাঁকে। অখিলেশের মন্তব্য নিয়ে বিজেপি রে রে করে নেমে পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে। গর্জে ওঠেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
অখিলেশের ওই মন্তব্যকে কটাক্ষ করতেই আজ জিন্নাহ প্রসঙ্গ আনেন অমিত শাহ। সঙ্গে যোগ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী নেতা আজম খান এবং মুখতার আনসারির কথা। এই দুই নেতা সারা বছরই বিজেপির নিশানায়। তাৎপর্যপূর্ণ হল অমিত শাহ হালের এই দুই নেতার সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামী জিনহাকে এক বন্ধনীতে রেখেছেন। অনেকেই মনে করছেন জিনহার প্রতি এটা পরিকল্পিত অশ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় মেরুকরণে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসম্মানও বাদ থাকছে না বিজেপির প্রচারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন জনতার উদ্দেশে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী উত্তর প্রদেশকে মশা ও মাফিয়ামুক্ত করে ছেড়েছেন। এবার আমাকে বলুন, আপনারা বিজেপি ‘জ্যাম’ চান নাকি সমাজবাজী পার্টির ‘জ্যাম’ চান? অমিত শাহ বলেন, অখিলেশ যাদব হঠাৎ করেই জিন্নাহকে মহান বলে দেখাতে চাইছেন। এই সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকে আছেন। একজনও কি জিন্নাহর মধ্যে কোনও মহানুভবতা দেখতে পেয়েছেন?