দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক আন্দোলনের ভবিষ্যত এখনও সেই তিমিরেই। ৫ দফা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। আগামীকাল, বুধবার ষষ্ঠ দফার বৈঠক আছে সরকার পক্ষ ও কৃষক পক্ষের। তার আগেই, আজ মঙ্গলবার সন্ধেয় কৃষকদের ডেকে পাঠিয়ে কথা বলতে চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
আজই কৃষিবিল প্রত্যাহারের দাবিতে গোটা দেশে চার ঘণ্টার বনধ ডেকেছিল কৃষক সংগঠনগুলি। জায়গায় জায়গায় সফল হয়েছে বনধ কোথাও কোথাও কৃষকরাই পথ অবরোধ করে রাখেন। এই বনধের পরেই কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে চান অমিত শাহ। কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের কথায়, "আমাদের কাছে ফোন এসেছিল। অমিত শাহ মিটিং ডেকেছেন। আমাদের সন্ধে সাতটায় যেতে বলা হয়েছে।"

গত শনিবারই কৃষকদের সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠক হয়েছে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার। কিন্তু আন্দোলনের কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি সেখানে। কৃষক পক্ষের তরফে অবস্থানে অনড় আন্দোলনকারীরা। সেপ্টেম্বর মাসে পাস হওয়া তিনটি নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা হলে তাঁরা কোনও রকম ভাবেই আপস করবেন না। কর্পোরেটদের প্রবেশ তাঁরা মেনে নেবেন না কোনও কিছুর বিনিময়ে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর এই আলোচনায় সরকার পক্ষের তরফে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের কোনও ইগো নেই, কিন্তু সরকার কৃষকদের সমস্ত দাবিই মানতে রাজি কেবল কৃষিবিল প্রত্যাহার করা ছাড়া।
আন্দোলনকারীরা চান, সরকার নতুন তিনটি কৃষি বিল নাকচ করুক। গত সেপ্টেম্বরে তিনটি বিল পাশ হয়। সরকারের দাবি, এর ফলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। কৃষকরা দেশের যে কোনও জায়গায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন কৃষি আইন কার্যকরী হলে তাঁরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন না। কৃষি মান্ডিগুলি অচল হয়ে পড়বে। কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শনিবার জানা যায়, সরকার কৃষি আইন সংশোধন করতে তৈরি। কিন্তু কৃষক নেতারা তাতে রাজি নন। নরেন্দ্র সিং তোমর ও পীযূষ গয়াল তাঁদের আশ্বাস দেন, নতুন আর একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে তার আগে মন্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান। আগামী বুধবার তাঁরা ফের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান।
অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার নেতা বালকরণসিং ব্রার বলেন, "সরকার তিনটি আইন সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার নিশ্চয়তাও দিয়েছে, কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম মূল্য তাঁরাই ঠিক করতে পারবেন। কিন্তু কৃষকেরা কোনও রকম মধ্যপন্থায় আসতে রাজিই নন, তাঁদের সাফ বক্তব্য আইন প্রত্যাহার করতেই হবে।"
আন্দোলনকারী কৃষকরা হরিয়ানা ও দিল্লির বিভিন্ন রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অবস্থান করছেন। তাঁরা হুমকি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে রাজধানীকে দেশের অন্যান্য অংশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন। আজকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বেশিরভাগ সংগঠনই বনধ সমর্থন করেছে।

গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে কৃষক আন্দোলন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লি আসার পথে বারবার বাধা পেতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড করে আটকানো হয়েছে তাঁদের। কোথাও লাঠিচার্জ, কোথাও জলকামানের সামনে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তাতেও থামেনি মিছিল। ট্রাকে করে, পায়ে হেঁটে কয়েক লাখ কৃষক জড়ো হয়েছেন দিল্লি সীমান্তে। সেখানেই অবস্থান করছেন তাঁরা। এই আন্দোলনে তাঁরা অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে পেয়েছেন।