দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনে এ বার গান্ধীনগর আসন থেকে যে মুহূর্তে অমিত শাহ-র নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, জল্পনা শুরু হয়েছে তখন থেকেই। কেন্দ্রে মোদী ফের সরকার গড়লে তবে কি মন্ত্রী হবেন অমিত শাহ? এবং বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরে অমিত শাহ-র যে রাজনৈতিক ওজন তাতে প্রায় সকলেই আন্দাজ করছেন, বিগ-ফোর এ থাকবেন তিনি।
এই অবস্থায় অনেকেরই ধারণা সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হতে পারেন অমিত শাহ। কেন? কারণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা অপরিসীম। অমিত শাহ-র রাজনৈতিক মস্তিষ্কের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই মানানসই বলে তাঁদের মত।
কিন্তু বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষ সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অমিতের লক্ষ্যই নয়। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি হিসাবে এমনিতেই তিনি যাবতীয় গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে থাকেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাঁর সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখেন। বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়ে ঘটনা-অঘটনের দায়ও নিতে হতে পারে।
তুলনায় বিশ্বজনীন ট্রেন্ডই হল, সরকারের অর্থমন্ত্রীর গুরুত্ব অনেক বেশি। মোদী সরকারের প্রথম জমানায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন অরুণ জেটলি। কিন্তু জেটলি বুধবার মোদীকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য এই মুহূর্তে কোনও দায়িত্ব নিতে তিনি অপারগ। ফলে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ওই পদের জন্য অমিত শাহই ডার্ক হর্স।
তবে এ ব্যাপারে সঙ্ঘ পরিবারের একটা আপত্তি রয়েছে। সঙ্ঘের শীর্ষ নেতাদের মতে, অমিত শাহ-র মন্ত্রী হওয়াই উচিত হবে না। কারণ, বিজেপি-তে এই প্রথম দেখা গেল সরকারের সঙ্গে দলের সংগঠনের ওজন সমান। বাজপেয়ী জমানায় দলের তুলনায় সরকার ভারী ছিল। কিন্তু অমিত শাহ গত পাঁচ বছর যে ভাবে সংগঠন চালিয়েছেন, তাতে সরকার ও দলের ওজনের ভারসাম্য ছিল। সংগঠন আগের থেকে অনেক মজবুত হয়েছে। অমিত শাহ সরকারে চলে গেলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হবে। দলে এমন কোনও নেতা নেই যিনি সংগঠনকে সে ভাবে ধরে রাখতে পারবেন। এমনকী নিতিন গডকড়ীর মতো নেতার পক্ষেও সেটা চাপের হবে।
মোদী-শাহ এবং সঙ্ঘ পরিবারের মধ্যে এই টানাটানি গত কাল পর্যন্তও চলেছে। তার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে যে অমিত শাহ মন্ত্রী হবেন কি হবেন না! বুধবার সন্ধ্যায় সেটাও স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা।