দ্য ওয়াল ব্যুরো : সন্ত্রাসবাদীদের (Terrorist) সঙ্গে গুলিবিনিময় হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। সাধারণ মানুষ জঙ্গিদের হাতে মারা যাচ্ছেন। তরুণদের জঙ্গি মতাদর্শে দীক্ষিত করার চেষ্টা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বাড়ছে। গত কয়েক মাসে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে কাশ্মীর উপত্যকা। এই পরিস্থিতিতে শনিবার শ্রীনগরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে বিভিন্ন নিরাপত্তারক্ষী সংস্থার শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অমিত শাহ তাঁদের কাছে জানতে চান, কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গিরা এত তৎপর হয়ে উঠল কীভাবে?
সম্প্রতি কাশ্মীরে আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানকার স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরি তরুণরাও জঙ্গিবাদের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায়।
সরকারি তথ্য বলছে, চলতি বছরে কাশ্মীরে ৩২ জন নিরীহ মানুষ খুন হয়েছেন। গত বছরে খুন হয়েছিলেন ৪১ জন নিরীহ মানুষ। চলতি বছরের প্রথম ন'মাসে ৬৩ বার হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। অন্তত ২৮ বার তারা নিরীহ মানুষের ওপরে অত্যাচার করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, সরকার দাবি করে, জম্মু-কাশ্মীর এখন সবার জন্যই নিরাপদ। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে সেখানে সংখ্যালঘু ও বহিরাগতরা নিরাপদ নন। সাধারণ মানুষ যাতে ভয় না পান, সেজন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, চলতি বছরে ৯৭ জন কাশ্মীরি যুবক বাড়ি ছেড়ে জঙ্গি দলে যোগ দিতে গিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৬ জন ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে অথবা বন্দি হয়েছে। গত বছরে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছিল ১৭৮ জন। তাদের মধ্যে ১২১ জন হয় মারা গিয়েছে নয়তো ধরা পড়েছে। সম্প্রতি পুঞ্চে জঙ্গিদের সঙ্গে টানা ১৩ দিন লড়াই চালাতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। তখন ন'জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। সেনাবাহিনীর ধারণা জঙ্গিরা পাক কম্যান্ডোদের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, চলতি বছরে ১৪ বার অনুপ্রবেশকারীরা সফল হয়েছে। এনকাউন্টারের সংখ্যাও বেড়েছে। জঙ্গি দমনের জন্য নির্দিষ্ট ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে সরকার। চলতি বছরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ১১৪ জন সদস্য মারা গিয়েছে। কিন্তু কাশ্মীর উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গির সংখ্যা কমেনি।