.webp)
শেষ আপডেট: 14 May 2024 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কতটা হিন্দুবিরোধী তা বোঝাতে গিয়ে হাওড়ার আমতায় উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অরুণউদয় পাল চৌধুরীর সমর্থনে জনসভা থেকে বড় দাবি করে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা কেন যাননি সেই প্রসঙ্গ টেনে আনার পাশাপাশি অমিত শাহের দাবি, "বাংলায় ইমামদের ভাতা দেওয়া হলেও মন্দিরের পুরোহিতদের ভাতা দেয় না মমতা দিদির সরকার।" এরপরই অমিত বলে বসেন, "দুর্গাপুজোয় মমতাদিদি ছুটি দেয় না, রমজানে ছুটি দেয়!"
খানিক থেমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শাহ বলেন, "কী ভাই, বোনেরা আমি ঠিক বলছি তো!" শাহের মুখে এমন কথা শুনে মঞ্চে উপস্থিত প্রার্থী-সহ বিজেপির জেলা ও রাজ্য নেতারা পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করেন। ততক্ষণে উপস্থিত জনতা শাহের কথাকে সমর্থন জানিয়ে হ্যাঁ বলে ফেলেছেন। শাহও বলতে শুরু করেছেন, " এটাই তৃণমূলের সরকার। এরা রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চায়। কারণ, ওরাই তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক। তাই মমতাদিদি সিএএ-র বিরোধিতা করছেন।"
ঘটনা হল, ২০১১ সালে বাংলার তখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসার পর থেকেই রাজ্যে সরকারি ছুটির সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, দুর্গাপুজোয়। গত বছর ২০ অক্টোবর ছিল দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী। তার দু'দিন আগে থেকে অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর চতুর্থী থেকে ২৭ অক্টোবর অর্থাৎ টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার।
তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে দুর্গাপুজোয় টানা ১১ দিন ছুটি পেয়েছিলেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। সেবারে ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজোর পঞ্চমী থেকে ১০ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজোর দিন পর্যন্ত টানা ১১ দিন সরকারি ছুটি পেয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা।
২০১১ সাল থেকেই রাজ্যের ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোর জন্য সরকারিভাবে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়াও শুরু হয়। গত বছর এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার টাকা। যা নিয়ে বিজেপি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আদালতে মামলাও দায়ের করেছিলেন।
শুধু অনুদান বা ছুটি নয়, বর্তমানে কলকাতার পাশাপাশি জেলাস্তরেও সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুর্গা পুজো কার্নিভাল। এমনকী ২০২১ সালে এ জন্য ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতিও পেয়েছে বাংলার দুর্গাপুজো।
স্বভাবতই, ভোটের মাঝে শাহের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর কাছ থেকে এমন ফুলটস বল পেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূল নেতারা। শাহকে আক্রমণ করে তাচ্ছিল্যের সুরে কুণাল ঘোষ বলেন, "সন্দেশখালির স্টিং ভিডিওয় আসল সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বাংলার বিজেপি নেতারা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এমন অবস্থায় উনি যদি পড়াশোনা না করে এসে হাস্যকর কথা বলে যান, তাতে তো বিজেপির বিড়ম্বনা আরও বাড়বেই!"