শেষ আপডেট: 15 March 2020 03:43
এর পরে ফয়জানকে আটক করে জ্যোতি কলোনি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কিশমাথুন বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারি আমি ছেলের পাসপোর্ট সাইজ ফটো নিয়ে থানায় দৌড়ে গেলাম। তখন রাত একটা। ডিউটিরত পুলিশকর্মী ফটো দেখে বলল, সে থানাতেই আছে। কিন্তু অত রাতে দেখা করতে দিল না।” পরদিন সকালেও তিনি থানায় গিয়েছিলেন। তাঁকে ফয়জানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। কিশমাথুন তখন আম আদমি পার্টির স্থানীয় নেতার কাছে গেলেন। তিনিও ফয়জানের সঙ্গে তার মায়ের দেখা করিয়ে দিতে পারলেন না। কিশমাথুন তখন তাঁর বাড়ি থেকে চলে আসেন।
সেদিন রাত ১১ টা নাগাদ কিশমাথুন ওই আপ নেতার থেকে ফোন পান। তিনি কিশমাথুনকে অবিলম্বে তাঁর বাড়িতে আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, আরও দু’জন মা উপস্থিত। তাঁদের ছেলেদেরও পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে। আপ নেতা তাঁদের বলেন, জ্যোতি কলোনি থানায় যান। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়জানকে কিশমাথুনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অপর দুই মহিলাও ছেলেদের ফিরে পান। কিশমাথুন পুলিশকে বলেন, আপনারা যে ৩৬ ঘণ্টা আমার ছেলেকে আটকে রেখেছিলেন, তার নথিপত্র দিন। পুলিশ তখন বলে, তুমি যে ছেলেকে ফিরে পেয়েছ সেজন্য ভাগ্যকে ধন্যবাদ দাও।
পরদিন গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়জানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক বলেন, যেহেতু সে জেলে ছিল, উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়া তিনি হাসপাতালে ভর্তি করতে পারবেন না। কিন্তু থানা থেকে তাঁদের কোনও নথিপত্র দেওয়া হয়নি। অনেক কষ্টে ফয়জানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সে বেশিক্ষণ বাঁচেনি।
সরকারি হিসাবে ৫৩ জন মারা গিয়েছেন। কিন্তু দাঙ্গাপীড়িত এলাকার মানুষ বলছেন, মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। ঠিক কতগুলি বাড়ি বা দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কোনও হিসাব নেই। সম্পত্তির ক্ষতির হিসাব করতে লাগবে কয়েক মাস। ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলি ফের নির্মাণ করতে হয়তো লাগবে কয়েক বছর।