
শেষ আপডেট: 17 November 2022 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিএসটি নিয়ে দুদিন আগেই সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার রাজ্যের প্রাপ্য মেটাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, তাহলে কর আদায়ে জিএসটি চালু করে কী লাভ হল।
আজ সেই জিএসটি নিয়েই মোদীর অর্থমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে অবিলম্বে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকতে বলেছেন তিনি (Call GST Council meeting)। এই সূত্রে অমিত মিত্র (Amit Mitra) কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রীকে তাঁর কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
নিয়ম হল, প্রতি তিনমাস অন্তর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকবেন কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী (Finance Minister)। সেখানে রাজ্যগুলি তাদের বক্তব্য জানতে পারে।
অমিত মিত্রর অভিযোগ, সাড়ে চার মাস পরও পরবর্তী বৈঠক ডাকা হয়নি। বিলম্বের কারণ নিয়ে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক এবং অর্থমন্ত্রীর অফিস চুপ করে আছে। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রর মতে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক না ডাকাটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং অমর্যাদাকর। পদাধিকার বলে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রীই জিএসটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
দুদিন আগে ঝড়গ্রামে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে জিএসটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূল এই বিষয়ে সরব হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কর আদায়ের জিএসটি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে রাজ্যগুলি কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কারণ, একটা আইন থাকলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে, এই ব্যাপারে সব রাজ্যই সহমত হয় তখন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, যদি রাজ্যগুলি তাদের প্রাপ্য না পায় তবে কী লাভ হল জিএসটি চালু করে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যগুলির মধ্যে সহমত গড়ে তুলতে তৈরি হওয়া ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন অমিত মিত্র। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থাকাকালে জিএসটি কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে নিজের এই দুই অতীত পরিচয় তুলে ধরে অমিত লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় গভীর বেদনাহত হয়ে এই চিঠি লিখতে বাধ্য হচ্ছেন।
চিঠিতে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা ছাড়াও আরও দুটি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন বাংলার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। জিএসটি সংক্রান্ত বিষয়ে কাউন্সিলকে পরামর্শ দিতে মন্ত্রী গোষ্ঠীর দুটি কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্র। একটি কমিটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দিয়েছে। তারপর আর অগ্রগতি হয়নি। অমিতের দাবি, মন্ত্রী গোষ্ঠীর চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
চিঠিতে বাংলায় জিএসটি থেকে রাজস্ব আদাযের উদ্যোগ ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন অমিত মিত্র। তাঁর দাবি, আরও কয়েকটি রাজ্যের মতো বাংলার প্রশাসনের সাফল্য ও নিষ্ঠার কথাও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর উল্লেখ করা উচিত। কারণ, রাজ্যের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশও উপকৃত হয়।
মিনাখাঁর ধৃত 'মামা' আবুল গাইন কে? তাঁর বাড়িতে এসেই বোমা ফেটে মারা গিয়েছে ৮ বছরের ভাগ্নি