
ধুলিয়ানের দুই বাসিন্দা (নিজস্ব ছবি)
শেষ আপডেট: 13 April 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে অশান্ত একাধিক এলাকা। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে। তবুও প্রাণের ভয় নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে পালাচ্ছেন হিন্দুরা। শনিবার রাতে এমনই চিত্র দেখা গেল ধুলিয়ান ফেরিঘাট এলাকায়। সকলের একটাই কথা, 'ওরা বলছে হিন্দুদের টিকতে দেব না।' উঠেছে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগও।
ওয়াকফ আইন নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে আন্দোলন চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করে। যদিও তার মাঝেই সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমতি পেয়ে এটি আইনে পরিণত হয়। এই নিয়ে বাংলার মুসলিম অধ্যুসিত কিছু এলাকা ও জেলায় আন্দোলন শুরু হয়। যা বিরাট আকার নেয় মুহূর্তেই। মালদহের পর জ্বলে ওঠে মুর্শিদাবাদের সুতি, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান।
এমন অবস্থায় বাস্তবের চিত্রটা তুলে ধরলেন ধুলিয়ানের মানুষজন। ফেরিঘাটে জমায়েত হওয়া সকলের কাছে অন্য জেলায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে, তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, 'কিছুই নেই আর। সব শেষ। সোনার গয়না, ভাল জিনিস ঘর থেকে নিয়ে ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে আমাদেরই প্রতিবেশী মুসলিম ভাই-বোনরা। মারধর করছে। পুলিশ আসছে যখন পালিয়ে যাচ্ছে। তারপর আবার। কিছুই নেই আমাদের আর। মাথা গোঁজার জায়গাটাও নেই।'
ধুলিয়ান থেকে নৌকায় মালদহের কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকে যাচ্ছিলেন আরেক মহিলা। মুখ কাঁচুমাচু করে বলতে শুরু করলেন... 'সব বোমাবাজি করছে। আমাকে বলছে মোদী বিল পাশ করেছে, একটা হিন্দুকেও টিকতে দেব না। হিন্দুদের রাহাজানি করব। সোনা-দানা নিয়ে নিয়েছে, পয়সা নিয়ে নিয়েছে। তারপর আগুন লাগিয়ে দেয়। মালদহে ঠাঁই নিচ্ছি প্রাণ বাঁচানোর জন্য। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে মেরে। আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। বাচ্চারা সব না খেয়ে আছে। তিনবার করে ঘর পুড়িয়েছে। মেয়েদের বলছে ধর্ষণ করব। হাত ধরে টানছে। দাদা দাদা বলছি, তাও মানছে না। বলছে হিন্দুদের ছাড়ব না।'
ভিটে মাটি হারা এমন প্রায় ৫০০-রও বেশি মুর্শিদাবাদবাসীর জায়গা হয়েছে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার পারলালপুর হাইস্কুলে। সেখানে সমস্ত বয়সের মানুষজন রয়েছেন। পারলালপুরের স্থানীয়রাই জল ও শুকনো খাবার দিয়ে সাহায্য করছেন। বাকি প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তাঁদের ভবিষ্যৎই বা কী, সেনিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
তবে, মুর্শিদাবাদ মোটের ওপর শান্ত রয়েছে। সারারাত পুলিশি টহল চলেছে। এলাকায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেও স্থানীয় পুলিশ ও বিএসএফ টহল দিচ্ছে। বিএসএফর উচ্চপদস্থ আধিকারিকও উপস্থিত রয়েছেন এলাকায়।