
শেষ আপডেট: 1 July 2020 18:30
রাশিয়ার সুখোইয়ের প্রযুক্তিতে বদল ঘটিয়ে তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এই যুদ্ধবিমান থেকে নোভাটর কে-১০০ মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তি যোগ করেছে ভারত। সুখোইয়ের নয়া ভ্যারিয়ান্ট ব্রাহ্মস ক্রুজ মিসাইল বয়ে নিয়ে যেতে পারে। সুখোই থেকে ব্রাহ্মস ছুড়ে আকাশ থেকে ভূমিতে টার্গেট করা যায়। অন্তত ৩০০ কিলোমিটার পাল্লায় কাজ করে এই মিসাইল। ২০১৬-১৭ সালে সুখোইয়ের সঙ্গে ব্রাহ্মস জুড়ে নাসিকে প্রথম টেস্ট ফ্লাইট করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। বিশ্বের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্টগুলোর মধ্যে সুখোই সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী।
রাশিয়া দিচ্ছে মিগ-২৯ ফাইটার জেটের নয়া ভার্সন
ডবল ইঞ্জিন ফাইটার জেটমিগ-২৯ ডিজাইন করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। আমেরিকার ফাইটার জেট ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-১৫ ঈগলকে টক্কর দিতে মিগ-২৯ তৈরি হয়েছিল। এই মাল্টিরোল কমব্যাট ফাইটার জেট আকাশ থেকে ভূমিতে অর্থাৎ এয়ার-টু-সারফেসে টার্গেট করতে পারে। ১৯৯০-২০০০ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসে। এই মুহূর্তে ভারতের হাতে তিন স্কোয়াড্রন মিগ-২৯ রয়েছে। অতিরিক্ত জ্বালানী ছাড়াই ১৫০০ কিলোমিটার উড়তে পারে মিগ-২৯।
ডিআরডিও দিচ্ছে অস্ত্র মিসাইল
বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। তৈরি করেছে ভারতের ডিআরডিও। যে কোনও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে কাছের বা দূরের পাল্লায় লক্ষ্যবস্তুতে টার্গেট করতে পারে অস্ত্র।
শর্ট-রেঞ্জে ১০ কিলোমিটার ও দূরপাল্লায় ১১০-১৬০ কিলোমিটার রেঞ্জে নিশানা লাগাতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। সুখোই-৩০এমকেআই, মিরাজ-২০০০, হ্যালের তৈরি তেজসের নয়া ভ্যারিয়ান্ট ও মিগ-২৯ থেকে ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। ১৫ কেজি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক নিয়ে ঘণ্টায় ৫ হাজার ৫৫৫ কিলোমিটার বেগে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম অস্ত্র।
২০১৭ সাল থেকে অস্ত্র মিসাইল তৈরি শুরু করে ডিআরডিও। এর রেডার, ইলেকট্রো অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম, এবং সেন্সর উন্নত ও আধুনিক মানের। লক্ষ্যবস্তুকে মুখোমুখি তাড়া করতে পারে ১৬০ কিলোমিটার রেঞ্জ পর্যন্ত। আকাশযুদ্ধে এই মিসাইল লহমায় শত্রুপক্ষের ফাইটার এয়ারক্রাফ্টকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল দেবে ডিআরডিও
নৌবাহিনীর জন্য সারফেস-টু-সারফেস ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল নির্ভয় দিতে চলেছে ডিআরডিও। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল। এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে চোখের নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য শক্তিশালী রকেট লঞ্চার তৈরি করেছে অ্যাডভান্সড সিস্টেম ল্যাবোরেটরি। এতে রয়েছে মাইক্রোইলেকট্রোমেকানিক্যাল সিস্টেম (MEMS)ও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম। ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন ১৫০০ কিলোগ্রাম। ২০০-৩০০ কিলোগ্রাম ওজনের ২৪টি ভিন্ন রকমের ওয়ারহেড রয়েছে।