দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে লাদাখে যখন চিনের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে, তখন অরুণাচলে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হল সোমবার। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে প্রশংসা করেছে চিনও।
গত ৩১ অগস্ট তখন বিকেল। অরুণাচলের ইস্ট কামেনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ডের জওয়ানরা দেখতে পান এক ঝাঁক চমরি গাই এবং বাছুর ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘোরাঘুরি করছে। খোঁজ করে জানা যায় ১৩টি চমরি গাই এবং চারটি বাছুর আসলে চিনের। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে ভারতে।
এরপর গত সাতদিন ধরে ভারতীয় ভূখণ্ডের ঘাস, পাতা খেয়েই দিন কাটছিল চমরি গাইগুলির। সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ড সবক'টি চমরি গাই ও বাছুরকে ধরে লাল ফৌজের হাতে তুলে দেয়।
নয়াদিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক চাপানউতোর, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সামরিক উত্তেজনার মাঝে অরুণাচলের এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। আরও একবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মানবিক মুখ দেখা গেল।
লাদাখ সীমান্তে ফের সংঘাত শুরু হয়েছে দু'পক্ষের। প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে সোমবার গভীর রাতে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি দাবি করেছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে চিনের সীমানায় ঢুকে গুলি চালিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
চিনের জিনপিং সরকারের মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’ সোমবার গভীর রাতে দাবি করেছে, শেনপাও পাহাড়ের কাছে প্যাংগং সো লেকের দক্ষিণ কূলে ভারতীয় সেনা ফের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেছে। লাল ফৌজের পশ্চিম থিয়েটার কম্যান্ডের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করেছে ওই সংবাদপত্র। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে ভারত গুলিও চালিয়েছে বলে দাবি তাদের। এই পরিস্থিতিতে চিন নাকি পাল্টা জবাবও দিয়েছে, তবে তা ঠিক কী, তার অভিঘাতই বা কী, গোটা ঘটনায় এখন পরিস্থিতি ঠিক কেমন– তার বিস্তারিত বিবরণ কোনও তরফেই মেলেনি।
সামগ্রিক ভাবে চিন-ভারত উত্তেজনা যখন এই পর্যায়ে, তখন অনন্য নজির তৈরি হল অরুণাচলে।