দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে কয়েকশো দেশে লকডাউন। বহু মানুষ তাঁদের প্রিয়জনের থেকে দূরে রয়েছেন এই মহামারী-বিধ্বস্ত সময়ে। অনেকেই চোখের দেখাটুকুও দেখতে পাচ্ছেন না কাছের মানুষকে। এই অবস্থার বদল কবে হবে, কত দিন পরে সব ঠিক হবে, কেউ জানে না। এমনই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে প্রথম নাতনিকে দেখতে গেলেন এক দাদু। দেখা হল, কিন্তু ছোঁয়া হল না। মাঝখানে রয়ে গেল জানলার কাচের দেওয়াল। আবেগে আর চোখের জলে ভেসে গেল মুহূর্ত। সেই ছবি দেখে আবেগে আপ্লুত নেটিজেনরাও।
আমেরিকার মিশিগানের এই ঘটনাটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন জোশুয়া জিলেট, ওই ব্যক্তির জামাই। সদ্য বাবা হওয়ার পরে তিনি লেখেন, "আমার স্ত্রীর বুক ভেঙে গেছে, তাঁর বাবা এত দূর হেঁটে এসেও আমাদের মেয়েটাকে ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না।" লেখার সঙ্গে রয়েছে একটি ছবিও। কাচের জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর শ্বশুরমশাই আর এপারে ছোট্ট মেয়েকে কোলে করে দেখাচ্ছেন তিনি।
https://www.instagram.com/p/B-UwvCop_3v/
মিশিগানের বাসিন্দা জোশুয়ার বাড়ি থেকে ছ'কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকেন তাঁর শ্বশুর। আমেরিকায় ক্রমেই হুহু করে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুমিছিল। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই অবস্থায় তাঁদের এলাকা অবরুদ্ধ। ঘর থেকে বেরোনো বারণ, চলছে না কোনও যানবাহনও।
এমনই কঠিন সময়ে কন্যাসন্তান এলিয়ানার জন্ম দিয়েছেন জোশুয়ার স্ত্রী। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষ দিকটা পেরিয়েছে খুবই দুশ্চিন্তায়। তাঁর দেখা হয়নি বাবার সঙ্গে। প্রতিটি মুহূর্তে অবশ্য ফোন করে বাবা খোঁজ নিয়েছেন মেয়ের। নিরাপদে কন্যার জন্মও দিয়েছেন মেয়ে।
তার পরেই আর মানেনি বাবার মন। নিজের মেয়ের আত্মজাকে একবারটি দেখার জন্য ছটফট করে উঠেছেন। কিন্তু উপায় কী, কীভাবে পৌঁছনো যাবে মেয়ের বাড়ি! তাই পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন। যদিও স্পর্শ করা দূরে থাক, ঘরেও ঢোকেননি তিনি। সংক্রমণের ঝুঁকি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই জানলার বাইরে দাঁড়িয়েই কাচের এপার থেকে নাতনিকে দেখা হল দাদুর।
এই ঘটনার কথা জানিয়ে জোশুয়া আরও লিখেছেন. "আশা করি এই অবস্থা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে। আপনারা সকলে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলুন। একজন দাদু যদি তাঁর প্রথম নাতনিকে ছুঁয়ে দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন, তাহলে আপনিও ঘরে থাকতে পারবেন।"