দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলা লকডাউনের জেরে কোথাও শ্রমিকের দল মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে ঘরে ফেরার চেষ্টা করেছেন, কোথাও বা অসুস্থ বাবাকে কাঁধে নিয়ে সন্তান হন্যে হয়েছেন চিকিৎসকার জন্য। এবার আসন্নপ্রসবা মা ক্লান্তি, শ্রান্তি ও প্রসব বেদনা নিয়েই পায়ে হেঁটে খুঁজে বেড়ালেন হাসপাতাল। এক-দু'কিলোমিটার নয়, তাঁকে হাঁটতে হল প্রায় সাত কিলোমিটার।
শেষমেশ চোখের সামনে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক দেখতে পেয়ে কোনও রকমে ঢুকে পড়েন। সেখানেই তিনি জন্মও দেন তাঁর সন্তানের। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর এই ঘটনার কথা সামনে এসেছে। মা ও সন্তান ভাল আছে এখন।
জানা গেছে, আর কয়েক দিন পরে ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল ওই তরুণীর। কিন্তু সময়ের বেশ কয়েক দিন আগে হঠাৎই প্রসব বেদনা শুরু হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর স্বামী অ্যাম্বুল্যান্সের অথবা গাড়ির খোঁজ করতে শুরু করেন। কিন্তু লকডাউনে কিছুই মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই আসন্নপ্রসবা তরুণী তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই অবস্থায় হাঁটা শুরু করেন। বেশ খানিকটা পথ হাঁটার পর ক্রমশ হারাতে থাকেন সহ্যক্ষমতা।
সাত কিলোমিটার হাঁটার পরে চোখে পড়ে দাঁতের চিকিৎসার জন্য একটি ছোট ক্লিনিক, ক্রুপা ডেন্টাল ক্লিনিক। প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি সেই ক্লিনিকেই ঢুকে পড়েন। সেখানে ছিলেন না চিকিৎসকও। চিকিৎসকের সহায়কের সাহায্যেই সন্তান প্রসব করেন মহিলা। খোঁজ পেয়ে দ্রুত উপস্থিত হন, ক্লিনিকের চিকিৎসক ডঃ রাম্যা।
ডঃ রাম্যা জানান, তিনি পৌঁছে দেখেন অতটা হেঁটে আসার পরে ওই মহিলা অত্যন্ত ক্লান্ত। তিনি একটি প্রিম্যাচিওর্ড সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সকলেই প্রায় ধরে নিয়েছিল মহিলা মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়।
তিনি আরও জানান যে তিনি স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ নন, তাই তৎক্ষণাৎ তাঁর স্বামীকে ডাকেন যিনি একজন জেনারেল ফিজিসিয়ান। তাঁদের দু'জনের চেষ্টায় চলে প্রাথমিক চিকিৎসা, তারপর মা ও সন্তান দুজনকেই মালেশ্বরমের কেসি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তারা এখন ভাল আছে।
করোনা মহামারীর সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন অবশ্যই জরুরি। আরও কতদিন এমনটা চলবে, তা এখনও কেউ জানে না। কিন্তু লকডাউনে আপৎকালীন জরুরি পরিষেবা এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকবে না। বারবার বিভিন্ন ঘটনা এমনই আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে সাধারণের মনে।