৩৩ বার মাধ্যমিক ফেল করেও হাল ছাড়েননি, উতরে দিল লকডাউন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায়ের সৎপাত্র ১৯টি বার ম্যাট্রিকে ঘায়েল হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু ৩৩ বারেও হাল ছাড়েননি হায়দরাবাদের মহম্মদ নুরউদ্দিন। চেষ্টা ছাড়েননি একটুকুর জন্যও। মেধা না থাকলেও প্রতিবার দশম স্তরের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। ফেল করল
শেষ আপডেট: 30 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায়ের সৎপাত্র ১৯টি বার ম্যাট্রিকে ঘায়েল হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু ৩৩ বারেও হাল ছাড়েননি হায়দরাবাদের মহম্মদ নুরউদ্দিন। চেষ্টা ছাড়েননি একটুকুর জন্যও। মেধা না থাকলেও প্রতিবার দশম স্তরের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। ফেল করলেও উৎসাহ হারাননি। এবার উত্তীর্ণ হলেন। তবে, এবার আর তাঁকে পরীক্ষাই দিতে হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং তার জন্য লকডাউনের জেরে এবার মাধ্যমিক স্তরের এসএসসি পরীক্ষাই বাতিল করে তেলেঙ্গানা সরকার। সব পড়ুয়াকেই একাদশে উত্তীর্ণ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ৫১ বছরের নুরউদ্দিনও এখন দশম উত্তীর্ণ।
আরও পড়ুন
লকডাউন যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাছে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে তখন সেই লকডাউনই কার্যত ত্রাতা হয়ে উঠল এই ব্যক্তির কাছে। ৩৩ বছরে যে স্বপ্ন সফল হয়নি সেটাই হয়ে গেল করোনা আবহে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, "সরকার কোভিড-১৯ এর জন্য পরীক্ষা বাতিল করল বলে আমি এবার পাশ করে গেলাম।"
ইংরেজিতে বরাবরই কাঁচা নুরউদ্দিন। কিন্তু তাঁকে টিউশন পড়ানোরও কেউ নেই। নুরউদ্দিন নিজেই জানিয়েছেন, "আমি ইংরেজিতে বরাবরই খুব দুর্বল আর আমকে পড়ানোর মতো কেউ নেই। তবে আমার ভাই আর বোনের সহযোগিতা নিয়ে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যাই। আমি ৩৩ বছর ধরে একনাগাড়ে ফেল করেছি। তাও আমি বছরের পর বছর চেষ্টা করে যাই। একটা নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরির জন্য দশম শ্রেণি পাশের রেজাল্ট চাওয়া হয়েছিল আমার থেকে।"
তবে নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরির জন্য মাধ্যমিক পাশের অপেক্ষা করতে হয়নি নুরউদ্দিনকে। দশম পাশ না করেই ১৯৮৯ সালে একটা সংস্থার নিরাপত্তা কর্মীর কাজ পেয়ে যান। বেতন পান ৭ হাজার টাকা। চাকরি পাওয়ার পরেও মাধ্যমিকের গণ্ডি টপকানোর চেষ্টা চলতে থাকে চার সন্তানের বাবা নুরউদ্দিনের। একেই বলে লেগে থাকা।
থামতে চান না তিনি। মহম্মদ নুরউদ্দিন জানিয়েছেন, দশম পাশ করার পরে এবার তনি নতুন উদ্যমে চালিয়ে যাবেন লেখাপড়া।