
শেষ আপডেট: 19 October 2020 18:30
মালাবারে এই বার্ষিক নৌসেনা মহড়া তথা মালাবার এক্সারসাইজ আগে ছিল ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক নৌসেনা মহড়া। পরে জাপানও যোগ দেয় এই মহড়ায়। ২০১৭ সালে ভারত, জাপান ও আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক নৌমহড়া হয় বঙ্গোপসাগরে। এই নৌসেনা মহড়ার পোশাকি নাম ছিল ‘মালাবার ২০১৭।’ ভারত মহাসাগর শুধু নয় চিনের নৌসেনার তৎপরতা লক্ষণীয় বঙ্গোপসাগরেও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলযুদ্ধে চিনা ডুবোজাহাজের ক্ষমতা চিন্তার কারণ। চোরাগোপ্তা হামলা চালাতেই বেশি অভ্যস্ত তারা। এবছরও মালাবার এক্সারসাইজ হবে বঙ্গোপসাগরেই। সূত্রের খবর, ডুবোজাহাজের যুদ্ধকৌশল বিশেষভাবে অনুশীলন করা হতে পারে।
ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণান্ত্র প্রতিরোধী চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। বেজিং দাবি করেছিল, জলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল ওই জাহাজগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের।
মালাবার নৌমহড়ার প্রস্তুতির সঙ্গেই সমুদ্র ও আকাশের বৃহত্তর সামরিক মহড়া ‘ট্রপেক্স’-এর জন্যও প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে ভারত। নাম না করলেও মূলত চিনকে বার্তা দেওয়াই এই নৌ-মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। জলপথে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ সাজিয়ে, আকাশপথে কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে ভারত দেখিয়ে দেবে যে কোনও জায়গাতেই তারা অপ্রতিরোধ্য। ট্রপেক্স নৌ-মহড়ে হবে আগামী বছর জানুয়ারিতে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখনই। অক্টোবরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নিয়ে প্রস্তুতি চালাবে ভারতের নৌসেনা। এই প্রস্তুতিতে যোগ দেবে নৌসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ড ডিফেন্স অব গুজরাত (DGX) এবং ইস্টার্ন ন্যাভ্যাল কম্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস এক্সারসাইজ (ENCORE) । ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় এক মাস ধরে চলবে এই নৌ-মহড়ার প্রস্তুতি।