
শেষ আপডেট: 19 November 2023 09:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্নে আসতেন তেনজিং নোরগে, এডমন্ড হিলারিরা। স্কুলে পড়ার সময় এভারেস্ট জয়ের একটি গল্প পড়ার পর থেকেই মনে জেগেছিল বাসনা। যেখানে তেনজিং নোরগে, এডমন্ড হিলারিরা পা রেখেছিলেন সেই শৃঙ্গে পা রাখবেন তিনিও।
স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেননি। লক্ষ্যে পৌঁছতে ছোট থেকেই নিজেকে তৈরি করেছেন। ২০০০ সালের ১ আগস্ট অমরনাথ যাত্রায় গিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন ভয়াবহ জঙ্গিহানা। কেদারনাথে গিয়ে মেঘভাঙা বৃষ্টি, তুষার ধস থেকে জীবন হাতে করে বেঁচে ফিরেছিলেন (Piyali Basak)। আরও বহু তীর্থযাত্রীকেও বাঁচিয়েছিলেন সেই সঙ্গে। এইভাবেই যেন পাহাড়ের সঙ্গে আরও নিবিড় এক সম্পর্ক তৈরি করেছেন তিনি (Piyali Basak)। গত বছরের মে মাসে এভারেস্ট (Mount Everest) ও লোৎসে এক সঙ্গে জয় করেছিলেন চন্দননগরের পিয়ালি বসাক (Piyali Basak)। পরের মে মাসেই অন্নপূর্ণা এবং মাকালু পৃথিবীর দশম ও পঞ্চম উচ্চ শৃঙ্গে আরোহণের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। এভারেস্ট অভিযানের টাকা উঠেছিল ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে। অন্নপূর্ণা অভিযানের টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই বাধাও কাটে।
আর পাঁচটা এভারেস্ট অভিযানের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ছিল ৩৪ বছরের তরুণী পিয়ালীর (Piyali Basak) এই অভিযান। কারণ তিনি এই শৃঙ্গে গিয়েছেন অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর চাপ কমে আসে বলে, অতিরিক্ত উচ্চতায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া শ্বাস নিতে খুবই কষ্ট হয়। মোটামুটি সাড়ে ছ'হাজার-সাত হাজার মিটার উচ্চতা থেকেই শুরু করতে হয় অক্সিজেন নেওয়া। সেখানে এভারেস্ট ৮৮৪৮ মিটার উঁচু। এই উচ্চতায় অক্সিজেন ছাড়া আরোহণ করা যথেষ্ট কঠিন। সেই কঠিন কাজই করে ফেলে রেকর্ড গড়েছেন পিয়ালী বসাক। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে বিনা অক্সিজেনে এভারেস্ট সামিট করেন তিনি, এমনটাই জানাচ্ছে কাঠমাণ্ডুর এজেন্সি।
শত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, আছে আর্থিক সমস্যা তা সত্ত্বেও পর্বতারোহণে বেরিয়ে পড়েন ছোটখাটো চেহারার পিয়ালি। অক্সিজেন ছাড়া পাহাড় চড়ার অভ্যাস তাঁর সহজাত। শরীরে ওজন মাত্র ৪২ কিলোগ্রাম। হালকা ওজন ও ফুসফুসের ক্ষমতা পিয়ালীকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। নানা বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ফিরে এসেছেন বিপদকে হেলায় হারিয়ে। কানাইলাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কিছুতেই হার মানেন না। চড়াই আর উতরাই ভেঙেই যে তাঁর আনন্দ।